নুর, তুমি নির্ভীক তারুণ্যে বুড়িয়ে যাওয়া সুলতান মনসুর: আসিফ নজরুল

সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯

নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রী ডাকলে আপনি অবশ্যই যেতে পারেন, উনাকে আপনার মাতৃসমও মনে হতে পারে। কিন্তু আপনাকে বলতে হবে কেন আপনি উনার কাছে আপনার ও আপনার সঙ্গীদের ওপর চালানো বহু নির্মম নির্যাতনের বিচার চাইতে ভুলে গেলেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরকে প্রশ্ন করেছেন রাজনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

তিনি নুরকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি নির্ভীক তারুণ্যে বুড়িয়ে যাওয়া একজন সুলতান মনসুর।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এমন প্রশ্ন করেন আসিফ নজরুল। তার দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘নুর, নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রী ডাকলে আপনি অবশ্যই যেতে পারেন, উনাকে আপনার মাতৃসমও মনে হতে পারে। কিন্তু আপনাকে বলতে হবে কেন আপনি উনার কাছে আপনার ও আপনার সঙ্গীদের ওপর চালানো বহু নির্মম নির্যাতনের বিচার চাইতে ভুলে গেলেন?

আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী রাশেদকে মাত্র তিনদিন আগে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল, কেন ভুলে গেলেন প্রধানমন্ত্রীকে এটি বলতে?

কেন ব্যর্থ হলেন ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির বিষয়টি ঠিকমতো ব্যাখা করতে?

আপনাকে খুব দ্রুত এসব বিষয়ে অবস্থান পরিস্কার করতে হবে। অতীতে সকল অত্যাচারের মুখে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপনার দৃঢ় ভূমিকা দেখে আপনার মধ্যে তরুণ বয়েসি বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখেছিলাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মেরুদণ্ড কোনো শাসকের সামনে বিন্দুমাত্র নুয়ে পড়ত না।

আপনার মেরুদণ্ড নুয়ে পড়লে আপনাকে তাই আর তরুণ বঙ্গবন্ধুর ছায়া মনে হবে না। বরং মনে হবে আপনি নির্ভীক তারুণ্যে বুড়িয়ে যাওয়া একজন সুলতান মনসুর।’

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রেণে সরকারি বাসভবন গণভবনে যান ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিতরা।

গণভবনে নুর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি মাকে হারিয়েছি। আপনার মাঝে আমি আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই।’

নুর আরও বলেন, ‘আমি আড়াই বছর বয়সে মাকে হারাই। ছোটবেলায় আমার একজন স্কুলশিক্ষিকার মাঝে মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি। আর একজনের মধ্যে আমি মাতৃত্বকে খুঁজে পেয়েছি। এখন আপনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) মাঝে আমি মাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছি।’ তখন প্রধানমন্ত্রী তাকে পাশে বসান।

গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি এবং সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া বাকি ২৩টি পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগ। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে তা বর্জন করেছে ছাত্রলীগ ছাড়া সবকটি প্যানেল। তারা পুনর্নির্বাচন দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়েছে।