নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে: ইসি সচিব

সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯

ঢাকা : পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সাতটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাচনে কী পরিমাণ ভোট পড়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ভোট পড়ার হার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম। কিছু কিছু জায়গায় কম, আবার কিছু কিছু জায়গায় বেশি ভোট পড়েছে।

তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় এবং দিনাজপুর, রংপুর ও সিলেটে বেশি ভোট পড়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজার ও নওগাঁয় কম ভোট পড়েছে। এবার ভোটের হার কেমন তা আগামীকাল নিশ্চিত করা যাবে। গতবার ভোটের হার শতকরা ৪৩ ভাগ ছিল। এবার আশা করা যাচ্ছে আরও বেশি হবে।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এটিকে একতরফা নির্বাচন বলে অভিযোগ করেছেন। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। নির্বাচন কমিশনে এ ধরনের কোনও আলোচনা হয়নি।

নির্ধারিত সময়ে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নির্ধারিত সময়ে পাঠানো সম্ভব হলে ভোটার সরঞ্জামও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আগামীতে সব সরঞ্জামসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন।

১৮ মার্চ ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ঠিক করে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। ১৭টি জেলার ১২৯টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও এর মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলার ভোট দ্বিতীয় দফার পরিবর্তে তৃতীয় দফায় নেওয়া হবে।

এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে থাকা দিনাজপুর সদর উপজেলার ভোটও চতুর্থ ধাপে (৩১ মার্চ) স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, আদালতের আদেশে দ্বিতীয় ধাপের তফসিল ঘোষিত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ভোট স্থগিত হয়েছে। এছাড়াও ছয়টি উপজেলার সবগুলো পদে একক প্রার্থী থাকায় এরই মধ্যে এসব উপজেলার ফল ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছে ইসি, যার কারণে এই ছয়টি উপজেলায়ও ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ছে না। ফলে সব মিলিয়ে ১১৬টি উপজেলায় সোমবার ভোট গ্রহণ করা হয়।

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ২৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ১৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ১২ জন। যে ছয়টি উপজেলার সবগুলো পদেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে সেগুলো হলো– চট্টগ্রামের রাউজান, মিরেরসরাই, নোয়াখালীর হাতিয়া, ফরিদপুর সদর, পাবনা সদর ও নওগাঁ সদর।