খেলাপি বেড়েছে ৪৪ ব্যাংকের

সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯

ঢাকা : আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ নেই ব্যাংকিং খাতে। এর ফলে ক্রমেই বেড়ে চলেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। পাশাপাশি মূলধন ঘাটতিও বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।

দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকেই খেলাপি বেড়েছে ২০১৮ সাল শেষে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এই সমস্যার সমাধান করতে হলে ব্যাংক খাতে সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। যা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।

সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ে ১৯ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। তবে গত সেপ্টেম্বরে প্রান্তিকের তুলনায় খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ অর্থসূচককে বলেন, ঋণ দেওয়ার সময় ঠিকভাবে মান যাচাই করা হয় না। অথবা চাপ সৃষ্টি করার ফলে এই ঋণগুলো দেওয়ার কারণে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে চাপ ও দুর্নীতিকে উপেক্ষা করার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। যতদিন ব্যাংকিং খাতে সুশাসন না আসবে ততদিন এরকম হতেই থাকবে।

এক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। যে আইন আছে তার প্রয়োগ দরকার। তবে তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এ অর্থনীতিবিদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে বাড়েছে খেলাপি ঋণ। এই ছয় বছরে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪০ হাজার ৫৮৩ কোটি, ৫০ হাজার ১৫৬ কোটি, ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি, ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি, ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি এবং ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

এবিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ঋণ দেওয়া ও আদায়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কুঋণ বৃদ্ধিতে সহযোগী ভূমিকা পালন করে। এটা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য বেশ উদ্বেগজনক। এ সমস্যা সমাধানে ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস, সুশাসন ফিরিয়ে আনা ও আইনী জটিলতা নিরসন করা উচিত।

উল্লেখ, আলোচ্য সময়ে খেলাপি ঋণ নামের অভিশাপ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেয়েছে ১৩টি ব্যাংক। ২০১৮ সাল শেষে রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের সোনালী ও রুপালি ব্যাংকের খেলাপি কমে এসেছে।

এছাড়া ৭টি বেসরকারি ব্যাংক, ৩টি বিদেশি ব্যাংক ও একটি বিশেষায়ীত ব্যাংকের খেলাপি কমেছে এবছর। ব্যাংকগুলো হলো ব্রাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংক (এইচএসবিসি), উরি ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।