পদত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়নি: ড. শবনম জাহান

বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৪, ২০১৯

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্টের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রসঙ্গে ড. শবনম জাহান বলেছেন, ‘এটা প্রশাসনকে বিতর্কিত করা এবং আমাকে প্রভোস্ট পদ থেকে সরানোর একটা ষড়যন্ত্র। সরকরবিরোধী যেসব শিক্ষক আছেন তাদের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে। আমাকে পদত্যাগ করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। আগে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে পরে কমিটি করা হয়েছে।’ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চলাকালে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সিলযুক্ত ব্যালটের একটি ব্যাগ পাওয়ার ঘটনায় ওই হলের প্রভোস্ট ড. শবনম জাহানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বুধবার একটি দৈনিককে তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য দু-একটি হলে এ রকম ঘটনা ঘটলেও সেখানে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেবল এখানেই এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। যে-কেউ এটা বুঝবে যে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে প্রভোস্টকে সরানোর জন্য এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’ ড. শবনম জাহান বলেন, ‘আমি মনে করি এখানে বিভিন্ন রকম জটিলতা আছে। হলের প্রভোস্ট শুধু পরিবর্তন হয়েছে এমন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও পরিবর্তন হয়েছে। আগের উপাচার্যের কিছু আবাসিক শিক্ষক আছেন, আগের প্রভোস্টেরও কিছু আবাসিক শিক্ষক আছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা আমাদের কতটা সহায়তা করেছেন এটি প্রশ্নের বিষয়। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীও আছেন এ ঘটনায়। যখন আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি জানানো হলো, তখন কয়েকজন আন্দোলনকারী ছাত্রীকে ওই হলের আবাসিক শিক্ষিকা জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়ে বলেন, মা, তোমরা খুব ভালো কাজ করেছ। তারা ডাকসুকে কেন্দ্র করে একটা নাটক সাজিয়েছে। যখন ভোট গ্রহণ নিয়ে ঝামেলা তৈরি হলো, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসা করতে যারা এসেছিলেন, তারা কেউ আমার সঙ্গে একটা কথাও বলেননি। আমার কোনো ছাত্রী প্রভোস্টের পদত্যাগ চায়নি। তারা দাবি জানাচ্ছিল সুষ্ঠু ভোটর। যেটা তাদের ন্যায্য দাবি। আমি আট মাস এই হলে প্রভোস্টের দায়িত্বে ছিলাম এবং এর আগে সাড়ে আট বছর এখানে আবাসিক শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি।’