হবিগঞ্জ-বেনাপোলে ৩ নারীকে গণধর্ষণ

সোমবার, মার্চ ১১, ২০১৯

ঢাকা: হবিগঞ্জের বাহুবলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে বখাটেরা। আর যশোরের বেনাপোল সীমান্তে আটকে রেখে দুই নারীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনায় ৭ বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাহুবলে বইমেলায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে স্কুলছাত্রী প্রেমিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গত শনিবার মধ্যরাতে তাকে শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম তোফায়েল মিয়া (২০)। সে বাহুবল উপজেলার বাঘেরখাল গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। গতকাল রবিবার তাকে বাহুবল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন আগে থেকে এ গণধর্ষণের নীলনকশা করে তোফায়েল ও তার সহযোগীরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে মামুন ওই কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এর পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে বইমেলায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি হয় ওই স্কুলছাত্রী। মামুন ও ওই ছাত্রী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে।
কিছুদূর যাওয়ার পর ওই ছাত্রী বইমেলায় না নিয়ে অন্যদিকে নেওয়ার কারণ জানতে চায়। একপর্যায়ে সে চিৎকার শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে মামুন, তোফায়েল ও শিপন তার মুখ চেপে ধরে। তাকে বৃন্দাবন চা বাগান এলাকার পাশে একটি নির্জন পাহাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে আহত অবস্থায় বাড়ির কাছে রাস্তার পাশে ফেলে যায়।
র্যাব সূত্র জানায়, ধর্ষণ ঘটনার ৩ দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি ধর্ষিতা ৫ জনকে আসামি করে বাহুবল থানায় মামলা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে।
এদিকে দুই নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে গতকাল রবিবার বিকাল ৫টায় বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ৬ জনকে আটক করে। তারা হচ্ছে পুটখালী গ্রামের আলমের ছেলে সোহেল (৩০), আজগারের ছেলে আরিফ (২৯), আবদুল খালেকের ছেলে আবদুুল্লাহ (২৭), মোর্শেদের ছেলে শিমুল (৩৫), আইয়ুব বিশ্বাসের ছেলে প্লাবন (২৮), শামসুর কসাইয়ের ছেলে মোরশেদ (৩৫)। আরেক ধর্ষক রাফিউলকে (৩২) না পাওয়ায় তার বাবা সাদেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধর্ষকদের আটকে সহযোগিতাকারী পুটখালী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জদু জানান, ধর্ষণের শিকার দুই নারী ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে সীমান্ত পথে ভারতে যাওয়ার জন্য পুটখালী গ্রামে আসেন।
গত শনিবার রাতে একদল বখাটে তাদের ভারতে পার করে দেবে বলে পুটখালী চরের মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়। পরে ১০-১২ জন তাদের আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এলাকাবাসী ঘটনা জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেয়। বেনাপোল পোর্ট থানাপুলিশের ওসি আবু সালে মাসুদ করিম জানান, ধর্ষণের শিকার দুই নারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছে। তারা যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।