শিক্ষকদের ৫ লাখ টাকা দিলেই জিতে যাবে নৌকা!

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৭, ২০১৯

রাজশাহী: আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার পরও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করেছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, পিকনিকের নামে শিক্ষক-কর্মচারীদের এলাকার বাইরে নিয়ে গিয়ে নৌকার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভোট চেয়েছেন এমপি ফারুক।

এ সময় ‘প্রতিদান’ হিসেবে শিক্ষকরা তাদের সমিতির ফান্ডে চেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। তারা এমপিকে বলেছেন, এ পরিমাণ টাকা দিলে তারা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেবেন।

বুধবার দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও মিলন উৎসবে এমপি ও শিক্ষকদের বক্তব্যে এ ধরনের কথা উঠে আসে।

এই শিক্ষকরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের এ ধরনের প্রতিশ্রুতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় বলে মনে করছেন গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমিনুর রহমান।

বক্তব্য দেন- গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মজিদ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিবলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে এমপিপত্নী নিগার সুলতানা চৌধুরী ও গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদও উপস্থিত ছিলেন।

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আমাকে নির্বাচিত করার কাজে সক্রিয়ভাবে আপনাদের অংশগ্রহণ করা এবং মানসিক শক্তি দেয়ার জন্য আমি আমার পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এবং নৌকা প্রতীকের জন্য আপনাদের এই আন্তরিকতা পদ্মা নদী দিয়ে যে রকম কোটি কোটি গ্যালন পানি সব সময় প্রবাহিত হয়, সেভাবে প্রবাহিত হতে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক নৌকা এখানে (গোদাগাড়ী) সব সময় বিজয়ী হবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রীকে যত শক্তিশালী আপনারা করতে পারবেন, প্রতিটি স্টেজে বেনিফিশিয়ারি আমরা সবাই হব।

এ সময় সংগঠনের তহবিলে টাকা দেয়ার জন্য এমপির কাছে দাবি জানান শিক্ষকরা। এমপি প্রশ্ন করেন, এক লাখ টাকা?

একজন শিক্ষক বলেন, গতবার তিন লাখ টাকা দিতে চেয়ে এমপি ভুলে গেছেন। প্রত্যুত্তরে এমপি বলেন, নির্বাচনের কারণে সেটা পারিনি। বকেয়া তিন লাখ এবার পরিশোধ করে দেব। তখন শিক্ষকরা তাদের তহবিলে এমপির কাছে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন।

এ সময় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘প্রিন্সিপাল রাজু বলছে যে, আমরা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যানকে (প্রার্থীকে) জিতিয়ে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে নেব, আপনি শুধু ঘোষণা দিয়ে দেন। কি আপনারা পারবেন? কই জোর দেখছি না তো। তখন শিক্ষকরা খুব আস্তে করতালি দেন। এমপি আবার বলেন, জোর দেখছি না কিন্তু এখনও। শিক্ষকরা তখন আরও জোরে করতালি দেন। এমপি আবার বলেন, কই? কই কই কই? শিক্ষকরা আরও জোরে করতালি দিতে থাকেন। এমপি বলেন, যাই হোক, এটা আমার প্রস্তাব না কিন্তু। আমি প্রস্তাব দেইনি। এটা প্রিন্সিপালদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে। সুতরাং, আমি কিছু বলতে পারব না।’

আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠেয় গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

আর মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বদিউজ্জামান।

এদিকে রাজশাহী নগরীর সীমান্ত নোঙরে শিক্ষকদের এই মিলনমেলাস্থলে জাহাঙ্গীর আলমের পোস্টার লাগানো একটি প্রাইভেটকার দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদিউজ্জামান বলেন, শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রিসাইডিং এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই পরিকল্পিতভাবে সমিতির নামে শিক্ষকদের নিয়ে পিকনিক-সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১০ তারিখের নির্বাচনকে প্রভাবিত ও কারচুপি করার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন।

তিনি বলেন, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি শিক্ষকদের এলাকার বাইরে ডেকে তাদের সঙ্গে আঁতাত করতে চাইছেন। তাদের উৎকোচ দিয়ে উপজেলা নির্বাচনকে কলুষিত করতে চাইছেন।

এ বিষয়ে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করবেন। এই সমিতির অধীনে তাদের প্রিসাইডিং এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষক আছেন কিনা তা তারা দেখবেন। কেউ থাকলে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।