বৈরী আবহাওয়া: সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে দুই হাজার পযর্টক

বুধবার, মার্চ ৬, ২০১৯

কক্সবাজার : ভ্রমণে এসে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে দুই হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বুধবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা সেখানে আটকা পড়েন।

কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এই রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক (পরিবহন) মোহাম্মদ হোসেন। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া কারণে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রুটে সাতটি জাহাজের মধ্যে, বর্তমানে চারটি চলাচল করছে। দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বজ্রমেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধির ফলে কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারে ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ কারণে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও এ সর্তকসংকেত বলবৎ থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে দুই হাজারের মতো পযর্টক সেন্টমার্টিন বেড়াতে যায়। প্রায় এক হাজারের মতো পর্যটক রাতে দ্বীপে অবস্থান করে। এর আগের কয়েকদিন যাওয়া আরও এক হাজার পযর্টক দ্বীপে অবস্থান করছিল। বুধবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পযর্টকেরা এসে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে ভিড় করছিল। তবে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা কক্সবাজারে চলে যায়।

এ প্রসঙ্গে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের টেকনাফের ব্যবস্থাপক শাহ আলম বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ দ্বীপে যায়নি। এর আগে দ্বীপে বেড়াতে এসে দুই হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া সাংবাদিক নুরুল হোসাইন বলেন, দ্বীপে ভ্রমণে এসে আটকা পড়েছি। শুধু আমি নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে এসে অনেকে আটকা পড়েছে। সমুদ্র উত্তাল রয়েছে, এজন্য ট্রলারও ছেড়ে যেতে দিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সেকান্দর আলী বলেন, দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। কোনো পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

টেকনাফের ইউএনও মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, সমুদ্র উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিনে যেতে দেওয়া হয়নি। যেসব পর্যটক টিকিট কেটেছিল তাদের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণে এসে দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারে সেজন্য সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ বলেন, দ্বীপে বেড়াতে এসে দুই হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েছে। তাদের কাছ থেকে কেউ যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করে সেজন্য হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি বৈরী আবহাওয়ায় কোনো পর্যটক যাতে সমুদ্রে গোসল করতে না নামেন, সে বিষয়ে বীচ কর্মীদের সর্তক করা হয়েছে।