ফেসবুকে প্রেম, ব্রাজিল থেকে সিলেটে তরুণী, মুসলিম হয়ে বিয়ে

শনিবার, মার্চ ২, ২০১৯

ইউএনবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কথোপকথন থেকে বন্ধুত্ব। দীর্ঘ ১৮ মাসে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। তাই দেশ-মহাদেশ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রেমিকের কাছে ছুটে আসেন ব্রাজিলের তরুণী লুসি ক্যালেন (২৯)। প্রেমের সম্পর্ক মুজবুত করতে ধর্মান্তরিত হয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

লুসি ক্যালেনের বাড়ি ব্রাজিলের বাখজিয়াং এলাকায়। সেখানকার একটি হাসপাতালের হেল্প লাইনে কর্মরত ছিলেন তিনি। আর এখন আছেন সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার বিলপাড় গ্রামের স্বামী সাহেদ আহমেদের (২৯) বাড়িতে। সাহেদ আহমেদ পেশায় আনসার সদস্য।

সাহেদ জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান লুসি। পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে লুসি ক্যালেন সিলেট আদালতে উপস্থিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নতুন নাম রাখেন খাদিজা বেগম। এরপর তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহরে মুসলিম রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় লুসি ক্যালেন জানান, বাবা-মায়ের মত নিয়ে বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করতে বাংলাদেশ এসেছি। আমি আগে কোনো ধর্মাবলম্বী ছিলাম না। তবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রবল ইচ্ছে ছিল।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অনেক ভালো লাগে জানিয়ে লুসি বলেন, ‘সত্যি ভালোবাসা সীমানা মানে না। ভালোবাসার জন্য মরণও আনন্দের। প্রেম মানুষকে মহান করে তোলে।

বিয়ে করতে বাবা-মায়ের অনুমতি ও কর্মস্থল থেকে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন লুসি। তাঁর সঙ্গে বাবা-মা বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে তাঁরা আসতে পারেননি।

লুসি বলেন, ‘গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। স্বামীর বাড়িতে বেশি সময় কাটাতে ছুটি নিয়ে আবারও বাংলাদেশে আসবেন।’

সাহেদ আরো বলেন, ‘ব্রাজিলের নাগরিক লুসি ক্যালেন প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসার পর উভয় পরিবারের সম্মতিতে মুসলিম নিয়ম মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছি। ফেসবুকে চ্যাট করেই লুসি ক্যালেনের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি ইংরেজি তেমন না বুঝলেও গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্য নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে আমিও ইংরেজিতে অনেকটা দক্ষ হয়ে যাই। লুসি ১৫ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছে। এই সপ্তাহের মধ্যে ব্রাজিলে চলে যাবে। সে সেখানে গিয়ে আমাকেও ব্রাজিল নেওয়ার ব্যবস্থা করবে।’