পিলখানার ঘটনায় ভারতের যুক্ত থাকার কোনো কারণই ছিল না: পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

ঢাকা: ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের যুক্ত থাকার কোনো কারণই ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সেসময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ওই ঘটনা ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ওই ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে আগামী কোনও গোয়েন্দা তথ্য একেবারেই ছিল না। আমরা পিলখানার খবর পেয়েছিলাম স্থানীয় টিভি চ্যানেল, রেডিও, নিউজ পোর্টাল ও খবরের কাগজগুলোর ওয়েবসাইট থেকেই। গণমাধ্যমগুলো তখন প্রতি মিনিটে ঘটনার আপডেট দিচ্ছিল। আর আমাদের হাইকমিশন তখন ছিল ধানমন্ডিতে, বেশ কিছু কর্মী যারা ওই এলাকায় ছিলেন, তারা কিন্তু পিলখানার ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দও শুনতে পেয়েছিলেন। ফলে প্রাথমিক খবরটা আমরা ওভাবেই পাই, আর ভেতরে যে কী সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটে গেছে, সেটা বুঝতে কিন্তু অনেক সময় লেগে গিয়েছিল। পরে শুনলাম, বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের দরবারে কী সব নিয়ে কথা কাটাকাটি আর রাগারাগি হয়েছে, তারপর উত্তেজিত জওয়ানরা সোজা গুলি চালাতে শুরু করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যারা চিরকাল ভারত বিরোধীতা করে এসেছেন, তারাই এসব আজগুবি কথা বলছিলেন, বেসিক্যালি এসব থিওরিও তারাই ছড়াচ্ছিলেন। কিন্তু একটা কথা বুঝতে হবে, এসব করিয়ে ভারতের তো কোনও লাভ ছিল না। শেখ হাসিনা সরকারকে ভারত কেনইবা খামোখা ঝামেলায় ফেলতে চাইবে? সোজা কথায়, আমাদের ওসবে যাওয়ার কোনও কারণই ছিল না। বিদ্রোহটা ছিল বিডিআরের ইন্টারনাল বা অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, জওয়ানদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও আরও নানা কারণে সেদিন অত সাংঘাতিক রক্তপাত হয়েছিল। তখন আবার এ রকমও খবর পেয়েছিলাম, বিএনপি-জামায়াত আমলে বিডিআরে তারা বহু লোককে ঢুকিয়েছিল। আর তারাই নাকি শেখ হাসিনা সরকারকে ডিস্টেবিলাইজ করার লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের সেই অনুগত লোকজনদের দিয়ে বিদ্রোহ করায়। এ রকম একটা থিওরিও কিন্তু তখন আমরা শুনেছিলাম।
ভারত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দিতে চেয়েছিল এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ বাজে কথা। আসলে কি, আমি তো তখন ওখানে সশরীরে ছিলাম। আর এটাও খুব ভালো করেই জানতাম, আমাদের কেউ কেউ দোষারোপও করবে। কারণ, বাংলাদেশে এটা মাঝে-মাঝেই হয়ে থাকে। বাংলাদেশের পলিটিক্সের ধরণটা এ রকম। ওই ঘটনার কিছুদিন আগেই বিএনপি-জামায়াতের জোট নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হেরে যায়… ফলে ন্যাচারালি ভারতকে আক্রমণ করে তারা ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে, এটা খুবই স্বাভাবিক।
এ ঘটনায় ভারতের কোনও মোটিভ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, মোটিভ তো ছিলই না। আসলে আমি বারবার যেটা বলতে চাচ্ছি, এ ধরনের কাজ করিয়ে ভারতের কোনও স্বার্থসিদ্ধি হবে না। এটা তো যে কেউ বুঝতে পারবে। তারপরও নিছক রাজনৈতিক কারণে কেউ কেউ ভারতকে দায়ী করতে চেয়েছেন। পরে তো বোধহয় তদন্ত রিপোর্টেও পরিষ্কার হয়ে গেছে, বিডিআরের জওয়ানরা নানা কারণে ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই ক্ষোভই তারা বুলেট ফায়ার করে উগরে দিয়েছিলেন, এটা তো সম্ভবত এতদিনে পুরোপুরি স্পষ্ট।