কেরানীগঞ্জের কারাগারে যেতে চান না খালেদা জিয়া

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

ঢাকা: এক বছরের অধিক সময় ধরে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদ জিয়া। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এই কারাগারের একমাত্র বন্দি। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওই কারাগারের পাশে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের নারী সেলে খালেদা জিয়াকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আসার পরে কারা কর্তৃপক্ষ স্থানান্তরের বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি সেল ও কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তারা কাশিমপুরে সুযোগ- সুবিধা অনুযায়ী খালেদার জন্য ভালো হবে মর্মে মত দেন। এরপরই কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি খালেদা জিয়াকে জানানো হয়। এতে খালেদা জিয়া বিরক্ত হন। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যেতে চান না সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের নির্ধারিত ভিআইপি সেলেও যেতে চান না তিনি। কারা কর্তৃপক্ষকে নিজের এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তার পা ফুলে গেছে। এখন হাঁটাচলা করতেও তার কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে এক রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা এই কারাগারেই একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি একবছর পূর্ণ করেন তিনি।

আদালতের অনুমতি নিয়ে কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন তার ব্যক্তিগত পরিচারিকা ফাতেমা। তার দেখাশোনার এবং যাবতীয় কাজ ফাতেমাই করে দিচ্ছেন। মাঝে মধ্যে তিনি গৃহকর্মী ফাতেমার সঙ্গে গল্প করেন। কারারক্ষীদের সহায়তা নিয়ে ফাতেমা তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে বারান্দায় ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ান। আদালতে বা হাসপাতালে আনা নেয়াতেও হুইল চেয়ারই ভরসা।

৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুসহ নানা শারীরিক সমস্যা ভুগছেন। মাঝখানে অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েক দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিএনপির অভিযোগ- খালেদা জিয়া সুস্থ্য না হওয়া অবস্থাই কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

যে মামলায় খালেদা জিয়া এক বছর আগে কারাগারে গেছেন, সেই মামলায় গ্রেফতারের দেড় মাসের মাথায় জামিন পেলেও তাঁর মুক্তি মেলেনি। এই মুক্তির পথে বাদ সেধেছে আরো ৩৬ মামলা। একটি মামলায় জামিন হলে, সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে অন্য মামলা। আর এভাবেই কেটে গেছে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়ার একটি বছর