ফের মিয়ানমারের মানচিত্রে সেন্টমার্টিন, রাষ্ট্রদূতকে তলব

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

ঢাকা : আবারো মিয়ানমারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। পুনরায় সেন্টমার্টিনসকে নিজেদের অংশ দাবি করেছে প্রতিবেশি দেশটি। রাষ্ট্রীয় তিনটি ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপকে মানচিত্রে দেখিয়েছে তারা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রদূতকে তলবের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শহিদুল হক। তিনি জানান, মিয়ানমারের মানচিত্রে ফের বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপকে নিজেদের ভূখণ্ডের অন্তর্গত দেখানো হয়েছে। আমরা মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে ডেকেছি, তার কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। দেখি তিনি কী জবাব দেন।

সেন্টমার্টিন কেবল অপরিসীম সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি নয়, কৌশলগত কারণেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবাল দ্বীপ। উনিশ শতকের আগ থেকেই এটি তৎকালীন ভারতবর্ষ তথা আজকের বাংলাদেশের অংশ। পুরনো মানচিত্রেও কখনো সেন্টমার্টিনকে নিজেদের বলে দাবি করেনি মিয়ানমার।

গেল অক্টোবরে জনসংখ্যা অধিদপ্তরসহ কয়েকটি ওয়েবসাইটে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের দেখায় মিয়ানমার। সে সময় রাষ্ট্রদূতকে তলব করলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। যদিও ঢাকাকে এ বিষয়ে তখনও কিছুই জানায়নি নেইপিদো। পরে জাতিসংঘকে বিষয়টি জানালে ভুল স্বীকার করেছিল সংস্থাটি। ওয়েবসাইট থেকে পরে সরানো হয়েছিল ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করা মিয়ানমারের সেই মানচিত্র।

সেই ভুল মানচিত্র আবারো দেখা যাচ্ছে মিয়ানমারের সরকারি ওয়েবসাইটে। সেন্টমার্টিন ছাড়াও শাহ পরীর দ্বীপকে তাদের অংশ বলে দেখানো হচ্ছে সেখানে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, মিয়ানমার মাঝে মাঝে উসকানি দেয়। তবে আমরা সেই উসকানিতে পা দিতে চাই না।আমরা সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েন চলছে।মিয়ানমারের প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করলেও সেটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হচ্ছে না।