২০১৯ সাল জুড়েই চাঙ্গা থাকবে পুঁজিবাজার

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

ঢাকা: পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদি ৮২ শতাংশ মানুষ। তাদের ধারনা, আগের বছরের চেয়ে বেশি রিটার্ন পাওয়ার পাশাপাশি ২০১৯ সাল জুড়েই পুঁজিবাজার বেশ চাঙ্গা থাকবে।

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট সেন্টিমেন্ট সার্ভে ২০১৯’-এর ফলাফলে এমন চিত্র উঠে আসে। শীর্ষস্থানীয় স্টক ব্রোকার লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের রিসার্চ টিম এ জরিপ পরিচালনা করে।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ৮২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ আশা করছে, ২০১৯ সালে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের পারফরম্যান্স আগের বছরের চেয়ে ভালো হবে। প্রায় অর্ধেক মানুষের বিশ্বাস এ বছর বাজার বেশ চাঙ্গা থাকবে। তবে দেশের অবকাঠামোগত সমস্যা এ বছরও বিনিয়োগ ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে থেকে যাবে। গত জানুয়ারির ১ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে বিভিন্ন পেশা ও প্রোফাইলের ১৩৩ জন ব্যক্তি অংশ নেয়। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ৮২ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা আশা করছে, ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারের রিটার্ন আগের বছরের চেয়ে বেশি হবে। ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করছে, ২০১৯ সালে দেশের পুঁজিবাজার বেশ চাঙ্গা থাকবে। আর ৪৭ শতাংশ মনে করছে, বছর শেষে স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের দৈনিক গড় ৮০০ কোটি টাকার উপরে থাকবে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে ছয় হাজার পয়েন্টের উপরে থাকবে। ২০১৮ সালে সূচকটি প্রায় ১৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে নেমে আসে। নির্বাচন-পরবর্তী আশাবাদের জোরে সূচকটি এখন ৫ হাজার ৮০০ পয়েন্টের উপরে অবস্থান করছে।

এতে বলা হয়, অংশ নেয়া প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করছে, এ বছর ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমবে এবং ঋণের সুদ বাড়বে। ৫৪ শতাংশ মনে করছে, মূল্যস্ফীতি আগের বছরের চেয়ে বাড়বে। জরিপে অংশ নেয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এ বছর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে থেকে যাচ্ছে অবকাঠামোগত সমস্যা। আর পুঁজিবাজারের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে সবার উপরে তুলে এনেছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। এদিকে বাজারে এগিয়ে যাওয়ায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফলই মুখ্য ভূমিকা রাখবে— এমনটি বিশ্বাস করছে ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা। ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা প্রতারণা ও কারসাজিকে ২০১৯ সালের পুঁজিবাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে চীনা কনসোর্টিয়ামের অংশীদারিত্ব বাজারে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে পরিবর্তন আনবে বলে মত দিয়েছে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা।

এতে আরও বলা হয়, ৮২ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা বিশ্বাস করে, দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সিংহভাগেরই জ্ঞান ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো আর্থিক সাক্ষরতা নেই। ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজারের সততা বাড়াতে আর্থিক প্রতিবেদন ও করপোরেট ডিসক্লোজারে স্বচ্ছতা অনেক বাড়ানো প্রয়োজন। ৮০ শতাংশ উত্তরদাতার মত, মানসম্মত রিসার্চ সমর্থিত আর্থিক পূর্বাভাস দেশের বাজারে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের মান বাড়াবে। আর উত্তরদাতাদের ৪২ শতাংশ ২০১৮ সালে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩০ শতাংশ মনে করছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই গেল বছর বাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমেছিল।