৭ জেলায় দুদকের অভিযান: দুর্নীতিতে নিমজ্জিত পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা!

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯

ঢাকা: দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সারা দেশের প্রায় সব পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। নিয়মিত অফিসে আসেন না অনেক কর্মকর্তা। সারা মাসের হাজিরা খাতা প্রায় ফাঁকা। কাজ চালান দালালরা। পাসপোর্ট প্রতি অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে ১৫শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব ভোগান্তিকে নিয়তি মানছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

বৃহস্পতিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) ৭ জেলায় পাসপোর্ট অফিসে একযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে এ চিত্র পেয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, পাসপোর্ট অফিস ঘিরে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে দালালরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে, দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে আসা এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার একযোগে দেশের সাতটি জেলার পাসপোর্ট অফিসে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুদক।

দুদক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে ৭টি শক্তিশালী এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করে দিনাজপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, সিলেট, মেহেরপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান তিনি।
এ অভিযান প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে দুদকের এ অভিযান। দুর্নীতির প্রমাণের ভিত্তিতে দুদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

অভিযানকালে মেহেরপুর, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা ও দিনাজপুরে মোট ৪ জন দালালকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে দুদক টিম। দালালদের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়। তাদের জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জে অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায়, দপ্তরের সহকারী পরিচালক হালিমা খাতুন গত এক মাস ধরে হাজিরা খাতা যাচাই করছেন না। এছাড়াও তার অফিসে সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল ফি’র অতিরিক্ত ১৫শ’ টাকা এবং জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। ঘুষ না দিলে ইচ্ছাকৃতভাবে পাসপোর্টে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটির সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সিলেট পাসপোর্ট অফিসে অভিযানে দেখা যায়, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে দালাল চক্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসে দালালরা বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণে ঘুষ আদায় করছেন বলে দুদক টিম প্রমাণ পায়। এ অফিসে ৫০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বরিশাল পাসপোর্ট অফিসে পুলিশ সদস্যরা দালাল সেজে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে বলে প্রমাণ পায় দুদক টিম। এছাড়াও কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসে ৪ জন কর্মকর্তাকে অফিসে অনুপস্থিত পায় দুদক টিম।