আমার সর্বশেষ বাজে অভিজ্ঞতা ‘মহিলা হোস্টেল’

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯

দেশীয় সিনেমার ইতিহাসের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মুনমুন। অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রায় শতাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন রুপালী পর্দার বাইরে ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালের পর চলচ্চিত্রের মাঝে অশ্লীলতা বা নগ্নতা জেঁকে বসে, আর ঠিক তখন মুনমুন চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান।

চিত্রনায়িকা মুনমুন তার একাল-সেকাল নিয়ে কথা বলেছেন। দীর্ঘ আলোচনায় জানিয়েছেন তার জীবনের নানান গল্প।

মুনমুন বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমি এখন মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত ‘তোলপাড়’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। ঢাকার অদূরে মধুমিতা মডেল টাউনে সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যের কাজ করলাম। গল্পটা অনেক ভালো। আশা করি সিনেমাটি দর্শকের ভালো লাগবে। অন্যদিকে আমার জীবন কাহিনী নিয়ে নির্মান হচ্ছে একটি শর্টফিল্ম। এই ফিল্মটি নির্মান করছেন জোহরা খান নামের এক পাকিস্থানি পরিচালক। বর্তমানে আমাদের সিনেমায় মন্দা চলছে। তবে আমি আশাবাদি আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সিনেমার সুদিন ফিরে আসবে।’

নিজের পরিবার নিয়ে মুনমুন বলেন, ‘আমার পরিবারের খুব সার্পোট পেয়েছি। আমার ভাই, আমার মাসহ সবাই আমাকে সার্পোট দিয়েছে। আমাকে নিয়ে যখন সিনেমা পাড়ায় অশ্লীল মন্তব্য শুরু হয় তখনই আমার পরিবার আমাকে বুঝিয়েছে। ভেঙে পড়তে দেয়নি আমাকে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুব ভালো আছি।’

তৎকালীন সময়ে সিনেমায় কাজ নিয়ে মুনমুন বলেন, ‘আমার যখন সিনেমায় পর্দাপণ তখন প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ্’র মৃত্যুতে সিনেমা হল ছেড়ে দিয়েছিল দর্শক। ঠিক তখনই ১৯৯৭ সালে দর্শককে হলমূখী করেছিল আমার ‘টার্জান কন্যা’ নামের সিনেমাটি। সালমান শাহ্’র নায়িকা হয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল আমার কিন্তু দূর্ভাগ্য তিনি অকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।’

সিনেমা থেকে সরে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৩ সালে সিনেমা ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। এটার একটাই কারণ, সেটা হচ্ছে অশ্লীল। আমাকে সবাই অশ্লীল নায়িকা বলে আঙুল তুলতো। আমি যেটা মেনে নিতে পারিনি। আমি সব সময় অশ্লীল সিনেমাকে দূরে রেখে কাজ করেছি। কিন্তু সেই সময় এক পরিচালক আমাকে জোর করে খারাপ সিনেমায় কাজ কারা জন্য পেসার করতে শুরু করে। আর সেই সুবাদে আমি ২০০৩ সালে ফিল্ম ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমার সর্বশেষ বাজে অভিজ্ঞতা ছিল ‘মহিলা হোস্টেল’ নামের সিনেমায়। আর এই সিনেমাটিই ছিল আমার শেষ বাজে অভিজ্ঞতা। ওই সিনেমায় আমাকে জোর করে খোলামেলা পোষাক পরতে বাধ্য করা হয়েছিল। সিনেমার কাজ শেষে আমি ঢাকায় ফিরে সরে গেছি রুপালী জগৎ থেকে।’

বর্তমানে ফিরে আসা নিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর পরিচালক মিজানুর রহমান মিজানের নির্মিত ‘তোলপাড়’ সিনেমার কাজ শুরু করি। অন্যদিকে আমার জীবন কাহিনী নিয়ে নির্মাণ হচ্ছে একটি শর্টফিল্ম। এই ফিল্মটি নির্মাণ করছেন জোহরা খান নামের এক পাকিস্থানি পরিচালক। ভালো গল্প পেলে আমি আবারো সিনেমায় নিয়মিত হবো। তবে এখনও আমার আগ্রহ সেই অ্যাকশন সিনেমায়।’