মনকে কর্মক্ষম রাখতে যা করবেন

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শরীর ভালো রাখতে আমরা এক্সারসাইজ করি। কিন্তু মন সুস্থ রাখতেও যে ব্যায়ামের প্রয়োজন হতে পারে, তা কি জানা আছে? সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা দাবি করছে যে নিয়মিত যদি মাথা খাটানো যায়, তা হলে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব অ্যালজ়াইমার’স বা ডিমেনশিয়ার মতো কিছু রোগ৷ এখনও বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে, শেষ কথা বলার অবস্থা আসেনি৷

এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব সামান্য সচেতন হলেই৷ আর যে কোনও বয়সে বা শারীরিক অবস্থাতেই মনকে কর্মক্ষম রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলার কাজটা চেষ্টা শুরু করা সম্ভব৷ তাই দেরি না করে আজই শুরু করুন!

গান/সুর চিনুন:
সঙ্গীত আমাদের মনে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দারুণ কার্যকর৷ খুব স্ট্রেস হলে বা সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর মন পজ়িটিভ রাখার জন্য অনেকেই গান বা যন্ত্রসঙ্গীত শোনেন৷ যদি আপনার বা আপনার বয়স্ক অভিভাবকদের কারও ভুলে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তা হলে প্রতিদিন নিজেদের মধ্যেই একটা খেলা খেলতে পারেন৷ প্রিয় গান বা সুরের একটা তালিকা তৈরি করুন, তার পর সেটা বাজিয়ে মনে করার চেষ্টা করুন সেই গান বা সুরের সঙ্গে আপনার কোন স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে৷ অত জটিলতায় না ঢুকতে চাইলে অন্তত কোন ছবিতে গানটি ব্যবহার হয়েছিল বা কোন শিল্পী গেয়েছিলেন সেটুকু মনে করার চেষ্টা করুন, তা হলেই হবে!

ক্রসওয়ার্ড বা যে কোনও পাজল:
আপনি অফিস যাওয়ার সময় গাড়িতে বা যে কোনও যানবাহনে যতটা সময় কাটান, তার মধ্যেই বেশ কয়েকটি ক্রসওয়ার্ড বা সুডোকু পাজল সলভ হয়ে যাওয়ার কথা৷ যে কোনও ধাঁধা সমাধানের জন্য মস্তিষ্ককে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, নার্ভগুলিও সচল ও সতর্ক হয়ে ওঠে৷ শব্দছকের আর একটা সুবিধে হচ্ছে, প্রচুর নতুন শব্দ শেখা যায় এবং সেগুলিকে মনে রাখার জন্যও মস্তিষ্ক সচেষ্ট হয়ে ওঠে৷

শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান:
বাচ্চাদের সঙ্গে যদি খানিকটা সময় নির্মল আনন্দে কাটানো সম্ভব হয়, তা হলে মন বেশ ঝরঝরে থাকে৷ বাচ্চাদের সঙ্গে তাদের মতো করে খেলুন, লুকিয়ে আইসক্রিম খেতে যান, তাদের কল্পনার দুনিয়ার শরিক হয়ে উঠুন৷ দেখবেন, স্ট্রেস কমাতে তা ম্যাজিকের মতো কাজে দিচ্ছে৷

ব্রেন অলিম্পিক:
বাড়ির বড়োদের জন্য, বিশেষ করে যাঁরা দিনের অনেকটা সময় গৃহবন্দি হয়ে কাটান নানা শারীরিক সমস্যার কারণে, তাঁদের জন্য দারুণ কার্যকর হতে পারে এই খেলা৷ তাঁদের যে হাতটি কম শক্তিশালী (ডানহাতিদের ক্ষেত্রে বাম হাত), সেই হাতে নাম সই করতে বলুন দশবার৷ দাঁত মাজতে, চুল আঁচড়াতে পারলেও খুব ভালো হয়৷ দুটো হাত কাজে লাগান সমান তালে৷ ডান হাত দিয়ে টেবিলের উপর টোকা মারুন, বাম হাত দিয়ে ওই সময়েই টেবিলে একটি কাল্পনিক বৃত্ত আঁকার চেষ্টা করুন৷ দুটো দিক একসঙ্গে কাজ করলে মস্তিষ্ক ঝরঝরে হয়ে উঠবে৷ মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্রেনকে চ্যালেঞ্জ করা৷ যদি কাজগুলো স্বচ্ছন্দে করতে পারেন, তা হলে পরের বার আরও একধাপ কঠিন চ্যালেঞ্জ দিন নিজেকে৷

এছাড়াও বেশ কিছু অ্যাপ আছে, যা আপনার ফোনে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন৷ জিগশ পাজল বা রুবিক্স কিউব নিয়ে সময় কাটানোর অভ্যেস থাকলেও আখেরে লাভই হবে৷ তবে খেয়াল রাখবেন, এগুলি সবই ঘরোয়া সমাধান৷ সমস্যা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছনোর আগেই ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ৷