ভেনেজুয়েলায় আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব মাদুরো’র

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে এক ভাষণে মাদুরো দেশটিতে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

খবরে বলা হয়, কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে দেয়া ওই ভাষণে মাদুরো বলেন, এ বছরই অবাধ ও নিরপেক্ষ পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নিয়ম অনুযায়ী আগামী বছর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মাদুরো এমন সময়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন যখন দেশটির সামরিক বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা পক্ষত্যাগ করে স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো’র পক্ষ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গুইদোকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, আর কোনও আলোচনার সুযোগ নেই। মাদুরো সরকারকে উৎখাতে সব বিকল্প ইতোমধ্যেই আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তার স্বৈরশাসনের মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে।

গত মে মাসে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মাদুরো। চলতি মাসের শুরুতে শপথ নেন বামপন্থি এ রাজনীতিক। তবে বিরোধীরা প্রথম থেকেই কারচুপির অভিযোগ তুলে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। দেশের যখন এই অবস্থা তখন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছেন হুয়ান গুইদো।

মাদুরোবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠার পর ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন ৩৫ বছর বয়সী বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদো। সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, কলম্বিয়াসহ ২০টি দেশ।

মূলত ২৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত হুয়াদ গুইদো নিজেকে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট দাবির পর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মোড় নেয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুইদোকে সমর্থন দিলেও মাদুরোর পাশে দাঁড়ায় রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের মতো দেশগুলো। শনিবারের সমাবেশে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নিন্দা জানান মাদুরো। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চৈতন্য বাড়ছে।

এদিকে শনিবার বিমান বাহিনীর এক জেনারেল মাদুরোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রকাশ্যে একই আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত এক সামরিক কূটনীতিক মাদুরোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেও প্রথবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীতে সরাসরি কর্মরত সদস্যরাও মাদুরোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা দিলেন। তবে সেনাবাহিনীর আনুগত্য দাবি করে আসা মাদুরো সরকার বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করেছেন।

শনিবার সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রথম সদস্য হিসেবে হুয়ান গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেন বিমানবাহিনীর জেনারেল ফ্রান্সিসকো জানিয়েস। টুইটারে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে বিমান বাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিংয়ের প্রধান জানিয়েস দাবি করেন, সশস্ত্র বাহিনীর ৯০ শতাংশ এখন মাদুরোকে সমর্থন করছেন না। তবে নিজস্ব ওয়েবপেজে তাকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়েছে ভেনেজুয়েলার বিমানবাহিনী।

টুইটারে জানিয়েসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই রাজধানী কারাকাসের বাইরে আরাগুয়ায় মাদুরোবিরোধী এক বিক্ষোভে যোগ দেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল আন্দ্রেস এলোয় ভলকান। টুইটারে পোস্ট করা ওই বিক্ষোভের ভিডিওতে তাকে জুয়ান গুয়াইদো প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে শোনা যায়। ‘গণতন্ত পুনপ্রতিষ্ঠায়’ সামরিক বাহিনীর অন্য সদস্যদেরও তাকে অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।