বিএনপিতে নয়, গোটা জাতির সঙ্কটকাল চলছে : ফখরুল

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯

ঢাকা : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সংসদের কোনো বৈধতা নেই। ৩০ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, বিএনপিতে নয়, এখন গোটা জাতির সঙ্কটকাল চলছে।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে ‘আওয়াজ’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘সহিংসতা ও নারী : বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, যে দলটি গণতন্ত্রের কথা বলেছে, সংগ্রাম করেছে, সেই দলটি আজকে আবার দ্বিতীয়বারের মতো গণতন্ত্রকে হত্যা করলো। প্রথমবার করেছে ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করলো।

তিনি বলেন, বিএনপিতে নয়, এখন গোটা জাতির সঙ্কটকাল চলছে। হতাশ না হয়ে নেতাকর্মীদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যে দেশে জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। যে দেশে সংবিধান সম্মত একটি নির্বাচন করতে গিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দখল করে নেয়া হয়। সেখানে নারী নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর বিচার পাওয়া যাবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সবাই জানি গত দশ বছর ধরে বাংলাদেশে একটি দলের শাসন চলছে। তারা ছলে বলে কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে ধংস করে দেওয়ার উপক্রম করেছে। গত নির্বাচনে দেখলাম অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে ক্ষমতায় নেয়ার জন্য রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।

তিনি বলেন, আজকে সংসদ চলছে, এই সংসদ কার কথা বলবে। এই সংসদ কি মহিলাদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে সে বিষয়ে কথা বলবে? বলবে না, কারণ হচ্ছে তাদের লোকেরাই এই কাজগুলো করছে। তাদের এই সংসদ বসানোর নৈতিক কোনো বৈধতা নেই। কারণ তারা নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের নামে গোটা জাতির প্রতি একটি নিষ্ঠুর প্রহসন হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের টকশোগুলোতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ান। অথচ আওয়ামী লীগ যে ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রকে ধংস করে দিল। সংবিধানকে লঙ্ঘন করলো সে বিষয়গুলো বলার সাহস তারা পান না।

তিনি বলেন, একটা ফ্যাঁসিবাদ যখন চলে, তার সর্বপ্রথম কাজটা কি থাকে, একটা ভয়ের সৃষ্টি করা, ত্রাস সৃষ্টি করা। সব জনগণের মধ্যে একটা ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া। এই ভীতিতে বাস-রেস্টুরেন্টে কেউ কথা বলতে চান না। তাদের সফলতা এই জায়গায়, তারা একটি ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এখন আর কেউ কথাই বলতে চায় না।

ফখরুল বলেন, আজকে ইকোনোমিস্টের মতো পত্রিকা ক্যাপশন করছে, গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীর মিডিয়া জানে যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে একটি নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এটা কি তার প্রাপ্য? তিনি জামিন পেয়েছেন কিন্তু তাকে তা দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৮ হাজার মামলায় ২৭ লাখ আসামি করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আজকে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আপনারা ভয় পাবেন না, সারাদেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে আছে। বড় কথা আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য দূরে সরে গেছে। সুতরাং এখন সাহস নিয়ে লড়াই করতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর সাহিদা রফিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, প্রফেসর ড. তাজমেরী ইসলাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম প্রমুখ।