সিলেট সীমান্তে ভারতীয় কয়লা আমদানি ফের বন্ধ, বিপাকে হাজারও শ্রমিক

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২২, ২০১৯

ঢাকা: ভারতীয় আদালতের বাধার মুখে চাহিদা থাকা স্বত্ত্বেও আবারও বন্ধ হয়ে গেল সিলেট সীমান্ত দিয়ে দেশের বাজারে কয়লা আমদানি। এর আগে গত ডিসেম্বরে অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে কয়লা আমদানি শুরু হয়েছিল। এবার দেশটির আদালতের নির্দেশে সিলেটের চারটি সীমান্ত দিয়ে আবার বন্ধ হলো এই জ্বালানি পণ্যটির আমদানি কার্যক্রম।

এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগে কয়লার আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশীয় আমদানিকারকরা। বিপাকে পড়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক।

বাংলাদেশে মূলত চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা হয় ভারতীয় কয়লা আমদানি করে। মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ কয়লার জোগান দেয় ভারত।

দেশটির মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা সিলেট সীমান্ত দিয়ে দেশে আমদানি করা হয়। সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের তামাবিল, বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী— এ চার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টন কয়লা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

প্রথমবার মেঘালয় থেকে কয়লা আমদানি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল ২০১৪ সালে। ওই সময় পরিবেশগত ক্ষতির কথা বিবেচনা করে কয়লা রফতানি স্থগিত চেয়ে মামলা করে মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠন। একই বছর অভিযোগ আমলে নিয়ে জ্বালানি পণ্যটির রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। বন্ধ হয়ে যায় সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি।

তবে ভারতীয় রফতানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কয়লা রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন দেশটির আদালত। এবার আবারও কয়লা আমদানিতে বাধা হলো আদালত।

সবশেষ ২০১৮ সালের ১ জুন থেকে সিলেট সীমান্ত দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত ৪ ডিসেম্বর ভারতের আদালত মেঘালয়ের বিভিন্ন খনিতে উত্তোলন ও মজুদ করা কয়লা রফতানির সুযোগ দেয়। সময় বেঁধে দেয়া হয় ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশীয় আমদানিকারকরা গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় কয়লা আমদানি শুরু করেন। ভারত থেকে সিলেট সীমান্ত দিয়ে কয়লা আমদানিতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার এলসি খোলা হয়। তবে ১৫ জানুয়ারি মেঘালয় থেকে সিলেটের সীমান্তপথে কয়লা আমদানি ফের বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে কয়লা আমদানি বন্ধ হওয়া নিয়ে স্থানীয় আমদানিকারকরা জানান, ভারত থেকে কয়লা আমদানি নতুন করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারও রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। প্রতি টন কয়লা আমদানিতে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় হতো প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। সেই হিসাবে সরকার এখন প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।