৭দিনেও উদ্ধার হয়নি সাড়ে ৩ বছরের শিশু দীপা

শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

বরিশাল : বরিশাল নগরের কলেজ রো এলাকা থেকে ৭ দিন আগে নিঁখোজ হওয়া সাড়ে ৩ বছরের শিশু সন্তান শিশু দীপা রানী (পুটি) কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তবে গত রোববার শিশুটি নিঁখোজ হওয়ার পর থেকে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এছাড়া দীপার বাবা বিনয় সমাদ্দার ঘটনার পরের দিন গত সোমবার সকালে অঞ্জাতনামাদের আসামী করে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

যদিও শিশুর অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানতে না পারায় দীপা বেঁচে থাকা না থাকা নিয়ে সংশয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বাবা-মা। আর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দীপাকে উদ্ধারের জন্য তাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম বলেন, অপহরন ও মুক্তিপনের খবর জানার পর থেকেই পুলিশ আপহরকারীদের আটক ও পুটিকে উদ্ধারের জন্য তৎপর রয়েছে ।

ইতিমধ্যে পুটির বাবার মুঠোফেনে ৪০লাখ টাকা মুক্তিপন দাবীকারীদের মধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলো, কলেজ রো এলাকার মো. রাসেল, তার ভাই সজীব এবং একই এলাকার মো. ফারুক ও আসাদুল হক। পুটি অপহরনের পর পুটির বাবার মুঠোফেনে ৪০লাখ টাকা মুক্তিপন দাবীর কথা স্বিকার করলেও আপহরনের কথা স্বিকার করেনি আটককৃতরা।

পুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর মাইকে শুনে লোভে পরে মুক্তিপন দাবী করেছিলো বলে জানিয়ে তদন্তকারী এই কর্মকর্তা বলেন, ওই চারজনকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

এদিকে ঘটনার ছয়দিন অতিবাহিত হলেও পুটিকে না পেয়ে এক প্রকার নির্বাক হয়ে পরেছে তার মা-বাবা । পুটির বাবা নগরের কাউনিয়া এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের কর্মচারী বিনয় সমাদ্দার বলেন, মেয়ে আমার কেমন আছে, কোথায় আছে, কি করছে, কিছুই জানতে এখনো পারেননি।

বাড়ীর মালিক ও ব্যাংক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, ঘটনার পর থেকে পুটির বাবা মা কেমন যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পরেছেন। মেয়ে না পেয়ে পুটির মা চায়না সমদ্দার কিছুটা এলামেলো কথা বলছেন।

উল্লেখ্য গত রোববার সকাল ১০টার দিকে শিশু কন্যা দীপা রানী ঘরের সামনেই খেলা করছিলো। এর কিছুক্ষন পরেই থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। প্রতিবেশীসহ নিকট আত্মিয় স্বজনদের কাছে খোঁজ খবর ও এলাকায় মাইকিং করেও দীপার সন্ধান না পেয়ে নিখোঁজের বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।

দুপুরের দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তার স্বামী (বিনয় সমাদ্দার) নম্বরে কল আসে। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে মেয়েকে ফিরে পেতে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। এ সময়ে টাকা না পেলে পুটিকে হত্যার ও হুমকি দেওয়া হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মূখ্যপাত্র সহকারী-কমিশনার নাছির উদ্দিন মল্লিক বলেন, অপহরণ এবং মুক্তিপনের বিষয়টি কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানার সাথে সাথেই শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন ক্লু ধরে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। যা এখানো অব্যহত রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে জোড়ালো ভাবেই অভিযান চলছে।