পার্লারকে টাকা না দিয়ে ঘরে বসেই করে নিন স্ট্রেট চুল

শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

চুলের সাজগোজ বরাবারই ফ্যাশন দুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণ। আধুনিক প্রজন্মের মেয়েদের কাছে চুলের যেসব ফ্যাশন সবচেয়ে জনপ্রিয়, তার মধ্যে ‘স্ট্রেটনিং’ অন্যতম। ভালো পার্লার থেকে চুল স্ট্রেট করাতে খরচ পড়ে ছয় থেকে ১২ হাজার টাকা। তবে চুলের সব কার্ল বসিয়ে সোজা দেখানোর জন্য ব্যবহার হয় নানা রকমের রাসায়নিক। স্ট্রেটনিং সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী ও অস্থায়ী- দু’রকম হয়ে থাকে।

বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের জন্য কম সময়ের প্রয়োজনে স্ট্রেট করার পদ্ধতি এক রকম। আবার কয়েক মাস বা বছর খানেকের জন্য চুল স্ট্রেট করার কায়দা আবার ভিন্ন। চুল স্ট্রেট করতে গিয়ে পার্লারের ভুলে চুলের ক্ষতিও হয়ে থাকে। ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাবে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, চুল ঝরা, চুলের আগা ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনাও হরহামেশা ঘটে। তা হলে উপায়?

ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করে যদি বাড়িতেই চুল স্ট্রেট করার উপায় খুঁজে পান, তবে খারাপ কী? তবে এই উপায়ে চুল সোজা করতে কিছুটা ধৈর্য প্রয়োজন। পার্লারের মতো চটজলদি কাজ না হলেও চুলের কোনো ক্ষতি না করে এবং নামমাত্র খরচে চুল সোজা করার এই বিকল্প পদ্ধতি বেশ কার্যকর। ঘরোয়া উপায়ে চুল স্ট্রেট করার উপাদান ও কৌশল দেখে নিন। ছুটির দিনে এমন প্যাকে আস্থা রেখে বদলে দিতে পারেন নিজের লুকস!

উপাদান: স্ট্রেটনিং প্যাক-এর জন্য হাতের কাছেই মজুত কিছু উপাদান যথেষ্ট। নারকেল কোরা, কর্নফ্লাওয়ার, লেবুর রস, পানি, অ্যালোভেরা জেল ও ক্যাস্টর অয়েলকে হাতিয়ার করেই পেয়ে যাবেন চুল সোজা করার দাওয়াই। দুই কাপ কোরা নারকেল, ১০০ মিলিলিটার জল, ছয় চামচ অ্যালোভেরা জেল এক সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ঘন যে পেস্ট তৈরি হলো তাকে একটি পরিষ্কার, পাতলা, শুকনো কাপড়ে বাঁধুন। এ বার তাকে একটি পাত্রের ওপর রেখে নিংড়ে নিলেই পেয়ে যাবেন অ্যালোভেরা জেল মেশানো নারকেলের দুধ।

এ বার অন্য একটি পাত্রে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস, আড়াই চামচ কর্নফ্লাওয়ার ও এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গ্যাস ওভেন জ্বালিয়ে ঢিমে আঁচে একটি নন স্টিক পাত্রে বসান। তাতে অ্যালোভেরা জেল মেশানো নারকেলের দুধ ঢালুন এর ওপর যোগ করুন লেবু-ক্যাস্টর অয়েল ও কর্নফ্লাওয়ারের মিশ্রণটি। নাড়াচাড়া করে ঘন হতে দিন। এ বার গ্যাস থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে রাখুন সেই মিশ্রণ। স্নানের ঘণ্টা দুই আগে চুলকে কয়েক ভাগে ভাগ করে নিয়ে গোড়া থেকে আগায় ভাল করে লাগিয়ে নিন মিশ্রণটি। এই সময় কখনওই চুল বাঁধবেন না। মোটা দাঁড়ার চিরুণি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন।

ঘণ্টা দুই তা শুকোতে দিন। এর পর যে শ্যাম্পূ ব্যবহার করেন, তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। তবে ধোয়া চুল পাখা বা প্রাকৃতিক হাওয়ায় শুকান। ড্রায়ার না ব্যবহার করাই ভালো। এই পদ্ধতি সপ্তাহে এক বার করে ব্যবহার করলেই কয়েক মাসে চুল ঝলমলে, উজ্জ্বল ও সোজা হয়ে যাবে। এক মাথা কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী হলেও এই পদ্ধতি কাজে আসবে, তবে তাতে একটু বেশি সময় লাগবে।

তাই সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর সোজা চুল পেতে ও চুলের যত্নে ভরসা রাখুন ঘরোয়া উপায়েই।