ওয়াশিংটন গেলেন মিলার, যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিবও

শুক্রবার, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

ঢাকা: ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার ১ মাস ১০ দিনের মাথায় ওয়াশিংটনে গেলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। বুধবার দিবাগত রাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো রাষ্ট্রদূতের ওয়াশিংটন যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কী কারণে চটজলদি তার যেতে হলো তা এখনো অস্পষ্ট। একটি সূত্র দাবি করেছে, স্টেট ডিপার্টমেন্টে জরুরি আলোচনা বা কনসালটেশনের জন্য রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব করা হয়।
সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতদের বার্ষিক সম্মেলন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ‘রাজনৈতিক আলোচনা’র কর্মসূচিও রয়েছে। পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সব মিলেই রাষ্ট্রদূত মিলার জরুরিভিত্তিতে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন বলে সরকারকে আগেই জানানো হয়েছে।
এদিকে, রাজনৈতিক আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। আগামী ২২ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হ্যালের সঙ্গে সচিবের বৈঠকের সূচি নির্ধারিত হয়েছে। ওয়াশিংটনে সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারও উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ৩০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আভাস দিয়েছেন ঢাকার কর্মকর্তারা। তারা জানান, ওই বৈঠক এবং রাষ্ট্রদূতের ওয়াশিংটন যাত্রাকে সামনে রেখে গত ২ জানুয়ারি আর্ল রবার্ট মিলার পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। সেখানে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয় এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আর্ল মিলার। নির্বাচন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা থাকলেও তারা বাংলাদেশ তথা সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আগেই স্পষ্ট করেছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটদানে বিরত রাখাসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হয় এমনটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে সব পক্ষকে নিয়ে গঠনমূলকভাবে সমাধান করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বানও জানায় ওয়াশিংটন।