সাভারের মোবাইল প্রতারক “ভন্ড মনির” আটক

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে : এবার পুলিশের হাতে আটক হলো সাভারের ব্যবসায়ী বেশী ভন্ড প্রতারক মোবাইল মনির ওরফে বাটপার মনির(৩৫)। যার বাবার নাম ইউনুস খান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) সেলিম রেজা সাভার সিটি সেন্টার থেকে মনিরকে আটক করে।

“কখনো আওয়ামী লীগ নেতা,কখনো সাভার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী, কখনো সাভার সিটি সেন্টারের ত্রিশটি মোবাইল দোকানের মালিক”- এমন নানান পরিচয়েই দাপিয়ে বেড়াতো মনির। কাক হয়েও “কোকিলের” বেশ ধরে হাই সোসাইটির মানুষদের সাথে ওঠাবসা শুরু করে সে।

কিন্তু বিধিবাম। বৃহস্পতিবার সে ধরা পড়েছে সাভার থানা পুলিশের হাতে।

বহুজাতিক একটি মোবাইল কোম্পানীর এক কর্মকর্তাকে মন্ত্রি পরিষদের এক সদস্যর নাম ভাঙ্গিয়ে হুমকি ধামকি দেবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

‘সাভার ইউনিয়ন পরিষদের একজন জনপ্রতিনিধি জানান, ও তো বাটপার। ওর কথা আর কি বলবো! গতবার ইলেকশনের আগে আমার এলাকায় এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে বলে, আপায় আমারে ডেকে নমিনেশন দেবে। আমরা দল করি,আন্দোলন সংগ্রাম করি, আর স্যুট টাই পরে এই ফক্কিনীর বাচ্চা আইস্যা কয়,চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ তার জন্য ডালভাত- গণভবনে ঢুকে সেলফি তুলেও এলাকার মানুষের কাছে এমন গাল গল্পও করে বেড়াতো এই প্রতারক- জানান এক ইউপি চেয়ারম্যান।

“সামান্য গাড়ি চালক থেকে ধান্ধাবাজী আর বাটপারির মাধ্যমে প্রতারণা করে কিছু অর্থ সম্পদের মালিক বনে যান মনির। বিয়ে করেন সাভারে উত্তর কলমা গ্রামে। সেখানকার পরিস্থিতিও করুণ।নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা।

সেই মনির হেমায়েতপুরে আওয়ামী লীগের এক নেতার নাম ভাঙিয়ে এতদিন দাপিয়ে বেড়াতো। কিন্তু বিষয়টি ওই নেতার কানে পৌঁছামাত্র তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। পরে মনির ভেড়ে স্থানীয় সাংসদের কর্মি সমর্থকদের পাশে।

নির্বাচনের আগে উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো নিজ এলাকার নির্বাচনী জনসভায় সামনের সারিতে বসে “নিজেকে শো অফ” করার চেষ্টা করে মনির। তবে স্থানীয় নেতারাও এই “খুচরাকে” ল্যাং মেরে সরিয়ে দেয়।তবে বিপুল ভোটে ডা.এনামুর রহমান সাংসদ নির্বাচিত হবার পর তার সামনে পিছনে সেলফি তুলে তা ফেসবুক পোষ্টে দেবার মাধ্যমে নিজেকে সাংসদের কাছের মানুষ হিসেবেও পরিচয় দিতে থাকে সে।এভাবে বড় নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করে বাটপার মনির।

র‌্যাব-৪ সাভার ক্যাম্পের একজন কর্মকর্তা জানান, মনির আদতে ছিলো একজন গাড়ি চালক। আমার দায়িত্ব পালনের সময় অভিযোগ পাই, আরেক গাড়ি চালকের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ নিয়ে তা আত্নসাতের চেষ্টা করছে মনির। বিষয়টি আমাদের গোচরে আসতেই সে অভিযোগকারীকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাকে ম্যানেজ করে।

সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের একজন নেতা জানান, সিটি সেন্টারে মনিরের ৩০টির মতো মোবাইল দোকান আছে-এমন গাল গল্প শুনে সেখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি,সবই ভুয়া। যার তার সাথে ঠেলে ঠুলে একটা সেলফি তুলতে পারলেই হলো। তারপর সেটা বেচেই চলে মনিরের চাপাবাজির ব্যবসা।

সাভার মডেল থানার (ওসি) আব্দুল আউয়াল মনিরকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,” ও তো বিশ্ব বাটপার। মনিরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।