সুবর্ণচরের সেই গৃহবধূকে গণধর্ষণের আলামত মিলেছে

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৩, ২০১৯

নোয়াখালী: ধানের শীষে ভোট দেয়ার জেরে গণধর্ষণের শিকার নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সেই নারীর (৪০) গণধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. খলিল উল্যাহ।

বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে রিপোর্টটি নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ডা. খলিল উল্যাহ বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। সকল প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. আফেফা জাহান তার নিকট রিপোর্টটি দাখিল করেছেন। এতে গণধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে নির্যাতনের শিকার ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আগের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থা ভালো।

প্রসঙ্গত, নৌকায় ভোট না দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় গত রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০-১২ জন কর্মী রাত ১০টার দিকে সিরাজ মিয়া নামে এক সিএনজি চালকের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে।

গৃহবধূর স্বামী সিএনজিচালক বলেন, ৩০ ডিসেম্বর তার স্ত্রী কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী সোহেল, আলাউদ্দিন, স্বপন, আনিস, আনোয়ার, আবু মাঝি, হেদু মাঝিসহ কয়েকজন তাকে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সবার সামনে তার স্ত্রী ধানের শীষে সিল দেয়।

ধর্ষিতার স্বামী আরও জানান, এরপর রাত ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের সেসব কর্মী তার বাড়ি এসে পুলিশ পরিচয়ে দরজা খুলতে বলে। সিরাজ মিয়া দরজা খুললে ঘরে ঢুকে তারা সিরাজ মিয়া ও তার চার সন্তানের হাত-পা-মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর তার স্ত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং রাতভর গণধর্ষণ করে। পরের দিন সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উলঙ্গ অবস্থায় ঘরের পাশে ফেলে যায়। এলাকাবাসী সকালে গৃহবধূকে উদ্ধার করে এবং অজ্ঞান অবস্থায় দুপুর সোয়া ১২টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।