মুখ খুললেন খন্দকার মোশাররফ

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮

কুমিল্লা : কুমিল্লা-১ ও ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও নির্বাচনি প্রচারে বিঘ্ন সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট ফোনালাপের ভিডিও প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে মোশাররফ বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ও গণমাধ্যমে থাইল্যান্ডভিত্তিক পোর্টাল ট্রিবিউনের বরাত দিয়ে আমার সঙ্গে জনৈক মেহমুদের কথোপকথনের একটি বানোয়াট ফোনালাপের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। এই ভিডিওটি আমার ভাবমূর্তি নষ্ট, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারকাজে বিঘ্ন ও আমাকে বিব্রত করতে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। এটি অনভিপ্রেত। এই ভিডিওটি হীন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জনৈক মেহমুদ নামের ব্যক্তিকে আমি চিনি না বা ভিডিওতে কথিত আইএসআই’র কোনও ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকেও চিনি না। কথিত এই ব্যক্তির সঙ্গে বা আইএসআই’র কোনও কর্মকর্তার সঙ্গে কখনও আমার এ ধরনের কথোপকথন হয়নি।’

বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ ও ২ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। নির্বাচনি প্রচারকাজে ব্যস্ত থাকায় প্রেসব্রিফিং করে উক্ত বিষয়ে প্রতিবাদ করতে পারছি না। এমতাবস্থায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফোনালাপের ভিডিওটি প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহল ও ব্যক্তির প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র এজেন্ট মেহমুদের মুঠোফোনের কথোপকথনকে নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্র দাবি করে তার (খন্দকার মোশাররফ) বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, আমরা অভিযোগ গ্রহণ করেছি। তবে মামলা এখনও প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-২ আসনের হোমনা উপজেলার ঘাড়মোড়া, জয়পুর ও ভাষানিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনি পথসভায় খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সারা দেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ আগামী ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষে ভোট দিয়ে ব্যালটের মাধ্যমেই সরকারকে বিদায় জানাবে। আওয়ামী লীগ ভোট চুরি করার চেষ্টা করতে পারে, তাই সবাইকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। বিএনপির কোনও অস্ত্র নেই, বিএনপির অস্ত্র একটিই, সেটি হলো ব্যালট পেপার। তাই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাসহ সরকার পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা কারো কোনও উসকানিতে পা দেবেন না। আমরা নির্বাচনে আছি এবং শেষ পর্যন্ত দেখবো। সরকার ইতোমধ্যে বিএনপির গণজোয়ারে হতাশ হয়ে পড়েছে।’

পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল ইসলাম, সেক্রেটারি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, পৌর বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক মুকুল, সেক্রেটারি ছানাউল্লাহ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক, ফজুলল হক মোল্লা, আলমগীর সরকার, শাহ আলম, আতাউল্লাহ, ইয়ামুছা, মহিলা দল সভাপতি শেফালী বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লা ও ছাত্রদল সভাপতি ভিপি অহিদ মোল্লা প্রমুখ।