স্মার্ট ও এলইডি টিভির দাম কমালো ওয়ালটন

বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮

ঢাকা : চলছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বিজয়ের মাস উপলক্ষে বড়া পর্দার স্মার্ট ও এলইডি টিভির দাম কমিয়েছে বাংলাদেশী মাল্টিন্যাশনাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটন। কারখানায় পণ্য উৎপাদন ও মাথাপিছু পণ্য উৎপাদন ব্যয় কমায় টিভির দাম আরো কমালো।

ডিসেম্বরের শুরুতেই ওয়ালটন ৩২, ৩৯ ও ৪৩ ইঞ্চির এলইডি ও স্মার্ট টিভির দাম দুই হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট ও এলইডি টিভির দাম কমেছে ১১’শ টাকা। ফলে, গ্রাহকরা ‘এন্ড্রয়েড ৭’ যুক্ত লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেমের ওয়ালটনের ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি এখন ২৩ হাজার ৮’শ টাকায় ও এলইডি টিভি ১৮ হাজার ৮’শ টাকায় কিনতে পারছেন।

এদিকে ৩৯ ও ৪৩ ইঞ্চির মডেলের টিভিতে দাম কমেছে ২ হাজার টাকা। এখন ৩৯ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি ৩৪ হাজার ৯’শ টাকায় এবং এলইডি টিভি ২৯ হাজার ৯’শ টাকায় কেনা যাচ্ছে। আর ৪৩ ইঞ্চি স্মার্ট ও এলইডি টিভির দাম কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৩৭ হাজার ৯’শ টাকা ও ৩৪ হাজার ৯’শ টাকা।

বিজয়ের মাসে ওয়ালটন টিভির অনলাইন ক্রেতাদের জন্য নগদ ছাড় ও ফ্রি হোম ডেলিভারির সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ওয়ালটন ‘ই-প্লাজা’ থেকে অনলাইনে ওয়ালটনের যেকোনো টিভি কিনলেই গ্রাহক পাচ্ছেন ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ ছাড়। পাশাপাশি ই-প্লাজার ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ফ্রি হোম ডেলিভারী সুবিধা। গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন পুরো ডিসেম্বর জুড়ে।

ওয়ালটন টেলিভিশন সেলস বিভাগের প্রধান মারুফ হাসান জানান, স্থ্যনীয় বাজারে গ্রাহকপ্রিয়তার শীর্ষে ওয়ালটন টিভি। ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর বাড়ছে টিভি বিক্রির পরিমান। চলতি বছরেও জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশের বেশি টিভি বিক্রি হয়েছে ওয়ালটনের।

তার মতে- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ফিচার, উচ্চ গুণগতমান, আকর্ষণীয় আউটলুক, সাশ্রয়ী মূল্য, দেশের সর্বত্র সহজলভ্য এবং দ্রুত সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চিয়তা থাকায় বাজারে গ্রাহকপছন্দের শীর্ষে ওয়ালটন টিভি।

তিনি বলেন, কারখানায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বাজারে ক্রমবর্ধমান বিক্রির প্রেক্ষিতে কারখানায় ওয়ালটন টিভির উৎপাদন বেড়েছে। সেই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমছে। ফলে, দাম কমিয়ে ক্রেতাদের আরো সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য দিতে সক্ষম হয়েছে ওয়ালটন।

ওয়ালটনের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ওয়ালটন টিভি এখন এশিয়া, মধ্য-প্রাচ্য, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মানের দিকে থেকে অনেক উন্নত এবং দামেও সাশ্রয়ী হওয়ার বিশ্ববাজারে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ওয়ালটন টিভির গ্রাহকপ্রিয়তা। তৈরি হচ্ছে নতুন রপ্তানি বাজার।

জানা গেছে, টিভির বড় পর্দায় ইউটিউব, ফেসবুক, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, গেমিং, মোবাইলে রক্ষিত অডিও, ভিডিও, ইমেজ ইত্যাদি উপভোগ, লার্জ ভিউ ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল, হাই কন্ট্রাস্ট পিকচার, ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড, নয়েজ রিডাকশন ও আল্ট্রা স্লিম ডিজাইনের হওয়ায় বাজারে ওয়ালটন স্মার্ট টিভির গ্রাহক চাহিদা ব্যাপকহারে বাড়ছে। এরই প্রেক্ষিতে গাজীপুরের চন্দ্রায় নিজস্ব কারখানায় স্মার্ট টিভির উৎপাদন বাড়িয়েছে ওয়ালটন।

বর্তমানে স্থ্যনীয় বাজারে ৩২, ৩৯, ৪৩, ৪৯ ও ৫৫ ইঞ্চির সর্বমোট ২৫ টি মডেলের এন্ড্রয়েড স্মার্ট টিভি রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ ও ৪৯ ইঞ্চিতে রয়েছে ১ টি করে মডেল, ৪৩ ইঞ্চিতে ৩ টি মডেল এবং ৩৯ ইঞ্চিতে ৫ টি মডেল। তবে মধ্যম আয়ের গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে ৩২ ইঞ্চির স্মার্ট টিভিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অর্থাৎ ১৫ টি মডেল রয়েছে। এসব টিভির মধ্যে সম্প্রতি লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম ‘এন্ড্রয়েড ৭’যুক্ত ৩২, ৩৯ ও ৪৩ ইঞ্চির নতুন মডেলের টিভি বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। নতুন মডেলের প্রতিটি টিভিতে রয়েছে ১ জিবি র‌্যাম ও ৮ জিবি বিল্ট-ইন মেমোরি।

ওয়ালটন টেলিভিশন বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, দেশেই নিজস্ব তত্ত্ববধানে কঠোরভাবে মান নিযন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ওয়ালটন টিভি। ওয়ালটন টিভি ইতোমধ্যে অর্জন করেছে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস) ও স্ট্যান্ডার্ডস অরগানাইজেশন অব নাইজেরিয়া প্রোডাক্ট কনফরমিটি এ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম এর টেস্টিং সার্টিফিকেট।

তিনি আরো জানান, আইএসও ক্লাস সেভেন ডাস্ট ফ্রি ক্লিন রুমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এইচএডিএস (হাই এ্যাডভান্স সুপার ডাইমেনশন সুইচ) এবং আইপিএস (ইন প্ল্যান সুইচিং) প্যানেল তৈরি করছে ওয়ালটন। যা প্যানেলের গুনগত মান ও দীর্ঘস্থ্যয়ীত্ব নিশ্চিত করে। এর ফলে দর্শকরা পান লার্জ ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল এবং হাই কন্ট্রাস্ট পিকচার। সেইসঙ্গে ওয়ালটন টিভি ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

ওয়ালটন টিভিতে রয়েছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টিসহ এলইডি প্যানেল ও খুচরা যন্ত্রাংশে দুই বছরের ওয়ারেন্টি ও পাঁচ বছরের ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। আরো রয়েছে আইএসও সনদপ্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের আওতায় দেশব্যাপী বিস্তৃত সার্ভিস পয়েন্ট থেকে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা।