‘নির্বাচনে দল নয়, গণতান্ত্রিক পথকে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র’

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

ঢাকা : কোনও বিশেষ দল বা প্রার্থীকে নয়, যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই গণতান্ত্রিক পথ ও প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার।

মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) তাকিয়ে আছি। নির্বাচনে কোনও দলকে নয়, আমরা সমর্থন করি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে।’

রবার্ট মিলার বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকও পাঠাবে। দূতাবাস সারা দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকল দল যেন অবাধে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। সবাই যেন নির্বাচনী প্রচারণা, সভা-সমাবেশের সমান সুযোগ পায়।’ ইসিকে সে বিষয়ে নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি।

বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে রবার্ট মুলার বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য এসেছিলাম। আমরা বলেছি, সকল দল অবাধে নির্বাচনে অংশ নেয়ার এবং রাজনীতি করার যেন সুযোগ পায়। তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাতে এবং র‌্যালি করার সুযোগ পায়। বিতর্কের মধ্যে দিয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র আরো বিকশিত হয়। গণমাধ্যম, বিরোধী দলসমূহ যেন তাদের মত ব্যক্ত করতে পারে।’

নির্বাচনে সকলের শান্তিপূর্ণ আচরণের প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘সবাই রাজনৈতিক দল হোক, আর সে যেই হোক, যেন শান্তিপূর্ণ আচরণ করে। সবাই যেন সহিংসতা থেকে দূরে থাকে। কেননা, সহিংসতা গণতন্ত্রের পথে বাধা। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সহিংসতা শুধু তাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ করে।’

মাকিন এ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪০ লাখ বাংলাদেশি (ভোটার) অংশ নেবেন। আমরা সবাই এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি- অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার বিষয়টিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহিত করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিমকে সহায়তা করবে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট প্রাক-মূলায়ন দল অক্টোবরে পাঠিয়েছিল এনডিআই। পরবর্তীতে ডিসেম্বরেও এরকম আরও একটি দল পাঠিয়েছিল। এনডিআইয়ের অংশীদার ‘দি এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইকলকশন’। তারা দু’জন আন্তর্জাতিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত করেছে এবং স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ইলেকশন পর্যবেক্ষকও পাঠাবে।’

তিনি জানান, মার্কিন দূতাবাস পৃথক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ করবে সারা দেশে। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অর্থায়ন করবে। যারা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিওজি) হয়ে কাজ করবেন।’