গর্ভবতী নারীর মৃত্যুঝুঁকি দ্বিগুণ করে যে রোগটি!

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

স্বাস্থ্য ডেস্ক : গুরুতর রক্তস্বল্পতার সমস্যা (অ্যানিমিয়া) গর্ভবতী নারীদের মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ করে দেয়, সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটিই দেখা গেছে।

২০ মার্চ, মঙ্গলবার ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ’ এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রক্তস্বল্পতা ও গর্ভকালীন মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণে সর্বোচ্চ সংখ্যক গর্ভবতী নারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পর প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। খবর সিএনএন।

শুধু তাই নয়, গবেষণাটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মোট ২৯টি দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির পিএইচডিধারী গবেষক এবং গবেষণাটির মূল লেখক জাহ্নভি দারু বলেন, ‘রক্তস্বল্পতা ও গর্ভবতী নারীদের মৃত্যুর মধ্যে হয়তো সম্পর্ক আগে থেকেই ছিল, কিন্তু ইতিপূর্বে এই সম্পর্ক স্থাপনের ভিত্তি স্বরূপ পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। কারণ, গর্ভাবস্থায় মৃত্যুর হার খুব কম।’

প্রায় তিন লাখ ১২ হাজার ২৮১ জন গর্ভবতী নারীর ওপর পরীক্ষা করে দেখা যায়, চার হাজার ১৮৯ জনের গুরুতর রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৩৪১ জন গর্ভবতী নারী মারা যায়।

গবেষকরা দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যান মডেলে উপরোক্ত সংখ্যাগুলো নিয়ে কাজ করার পর জানান, গুরুতর রক্তস্বল্পতা ও গর্ভকালীন মৃত্যুর মধ্যে সংযোগ রয়েছে।

এই গবেষণাটির আগেও বহু গবেষণা হয়েছে এই বিষয়ের ওপর। তবে ওইসব গবেষণা থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সবসময় একটি ক্ষীণ সন্দেহ ছিল, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা অথবা রক্তস্বল্পতার কারণে গর্ভকালীন মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

তবে নতুন এই গবেষণাটির তথ্য সেই সব সন্দেহ দূর করে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে- অন্য কোনো সমস্যা নয়, গুরুতর রক্তস্বল্পতার সমস্যা দ্বিগুণ করে তোলে গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর হার।

গত কয়েক দশকে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, ২০১৫ সালে তিন লাখেরও বেশি নারী মারা গেছেন সন্তান জন্মদানের সময়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার ফলে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সমস্যাই প্রতিরোধযোগ্য ছিল।

রক্তস্বল্পতা হলো তেমনই একটি শারীরিক সমস্যা। যে রোগে আক্রান্ত ৫০০ মিলিয়ন নারী। এ বিষয়ে দারু জানান, গর্ভবতী নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়। যে কারণে গর্ভবতী অবস্থায় নিজের ও গর্ভের সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ অব্যাহত রাখা জরুরি।