‘শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায় ইসি’

সোমবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮

ঢাকা : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শতভাগ নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দল, পক্ষ, ব্যক্তি না দেখে শুধুমাত্র নিয়ম কানুন মেনে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। এজন্য নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা বিচারিক হাকিমদের সহযোগিতা চায় কমিশন। এলক্ষ্যে সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে ভোটারদের মাঝে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হাকিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।

নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিচারকদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, মাহবুব তালুকদার, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান ও ইটিআইর মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক বক্তব্য দেন।

আচরণে, কাজে, দক্ষতায় সাধারণ মানুষ, প্রার্থী ও রাজনীতিবিদের মনে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিচারিক হাকিমদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, আমরা চাই না আপনাদের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হোক, আস্থার পরিবেশ যেন সৃষ্টি হয়- সেটা আমরা চাই। যিনি অপরাধী তার অপরাধকে আমলে নিতে হবে, যে অপরাধী নয় তাকে ন্যায়বিচার দিতে হবে। তাহলেই আস্থা অর্জন হবে।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন জাতি, সংবিধান ও ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ। সহযোগিতা ও বিচারিক মনোভাব দিয়ে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইন মেনে একটি নির্বাচন পরিচালনা করতে চান বলে জানিয়ে নূরুল হুদা বলেন, আমরা একেবারেই নিরপেক্ষভাবে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাই। আমাদের কোনো দল নেই, পক্ষ নেই, ব্যক্তি নেই। শুধুমাত্র নিয়মকানুন মেনে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই।

ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, আইনের শাসন না থাকলে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তাকে আমরা ‘হলুদ গণতন্ত্র’ বলি। আমরা হলুদ গণতন্ত্র চাই না। চাই স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক গণতন্ত্র।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনানুগভাবে নির্বাচন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ সব ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সোমবার থেকে টানা তিনদিনে ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান মাহবুব তালুকদার।