যে কারণে বিএনপি ছাড়লেন মনির খান

রবিবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৮

ঢাকা: বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মনির খান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। আজ রোববার (৯ ডিসেম্বর) বিকাল পাঁচটার দিকে গণমাধ্যমকে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এই সংগীত শিল্পী। এসময় মনির খান বিএনপি ছাড়া ও দলের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

মনির খান বলেন, ‘একটি দল এবং একজন নেতার সঙ্গে দলের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। সেতুবন্ধনটি আরও শক্ত হয় তখনই যখন যে এলাকা থেকে দল পরিচালনা করার দায়িত্ব পায় সে এলাকার অবস্থানের ওপরে। আমি জোর গলায় বলতে পারি মহেশপুর-কোটচাঁদপুর থেকে বিএনপির একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলাম। কিছুদিন আগেই বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে ছোট ছোট কোন্দলগুলো সমাধান করেছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপির ভেতরে কোনো কোন্দল থাকবে না। অন্তত বিএনপির মধ্যে যাকেই মনোনয়ন দেবে, আমরা তাকেই মেনে নিয়ে কাজ করবো। এত বড় ঐক্য বা সিদ্ধান্ত করার পরও যদি বিএনপির বাইরে চলে যাই, এবং আমার ওখানের লাখ লাখ জনতার চোখের পানি, বুকের ব্যথা মেটানোর ক্ষমতা যদি আমার না থাকে সেখানে থাকার বা সেখানে কাজ করার ইচ্ছা শক্তি থাকার কথা নয়।’

এ সময় তিনি তার রাজনীতির ব্যাপ্তিকাল সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমি ১৯৭৯ সালে ফুল প্যানেলে পাস করি, তখন থেকেই বিএনপির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা। ১৯৯১ সালে ঢাকাতে এসেছি। তখন থেকে জাসসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে সমস্ত কমিটিতে আমি ছিলাম। ২০০৮ এ গিয়ে কাউন্সিল হল, তারপর পরই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জাসসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হই। আমি এই মূহুর্ত থেকে দলের সকল পদ ও পদবী থেকে পদত্যাগ করছি।’

মনির খান তার পদত্যাগের লিখিত চিঠির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি এখানে বলছি, আর লিখিত আমি পাঠিয়েছি সেটা কার্যালয়ে পৌঁছেছে কিনা তা জানি না। এছাড়া আমার কাছে কোনো কপি নেই, তবে আমার ছোট ভাইয়ের কাছে আছে। এছাড়া দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের নেপথ্যে কিছু ছিল। আমার আর ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। ১০টি বছর আমি একেবারেই মাঠে থেকে রাজনীতি করেছি। আমার বিরুদ্ধে দল থেকে কোনো অভিযোগ করতে পারবে না। আমাকে কেউ সুযোগ সন্ধানী বলতে পারবে না।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সংগীত শিল্পী মনির খান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঝিনাইদহের চারটি আসনের মধ্যে বিএনপির তিনজন প্রার্থীকে চিঠি দেয়া হলেও ঝিনাইদহ-৩ আসনে দলটির কাউকে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

বিএনপি সূত্র জানায়, আসনটিতে জামায়াতের ভোট বেশি হওয়ায় বিএনপি জামায়াত ইসলামীকে ছেড়ে দিচ্ছে। এখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মতিয়ার রহমান।