সামাজিক মাধ্যমের যেসব ভুল সম্পর্ক শেষ করে দিতে পারে আপনার!

শুক্রবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৮

লাইফস্টাইল ডেস্ক : এটা সত্যি যে বিশ্বায়নের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দূরের মানুষও অনেক কাছে চলে এসেছে। যে কোনো মুহূর্তে প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু নেতিবাচক দিকও প্রকাশ পায়। সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভুল করে বসি আমরা। যা সম্পর্ক রক্ষার বদলে উল্টো প্রিয়জনকে ঠেলে দিতে পারে বহুদূরে। তাই বিষয়গুলোর প্রতি সচেতন থাকা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত তথ্য প্রদান:

সাধারণত প্রিয়জনের সঙ্গলাভের মুহুর্তটি অনেকেই স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে চান। শুধু তাই নয়, সবার জ্ঞাতার্থে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তা ছড়িয়েও দেন। সুন্দর মুহুর্তের দৃশ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে গিয়ে অনেকে একটি সাধারণ বিষয়ই ভুলে যান। তা হচ্ছে, সব মুহুর্তের ছবি বা ভিডিও সবার মাঝে শেয়ার করতে নেই। বিশেষ করে অন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলো। যদি সেটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ শেয়ার দিতে চান তবে প্রিয়জনের অনুমতি নেয়া উচিত। মনের অজান্তে হলেও কেউ তা না করলে প্রিয়জনের ভুল বোঝার শিকার হতে পারেন। এমনকি সম্পর্কও ভেঙে যেতে পারে।

অতিরিক্ত নজরদারি:

প্রিয়জনের প্রতি আপনার আবেগ যে প্রচুর এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আবেগের প্রকাশ ঘটাতে গিয়ে অনেকে প্রিয়জনের বিরক্তির পাত্র হয়ে দাঁড়ান। প্রিয়জন সামাজিক মাধ্যমে কি পোস্ট দিচ্ছেন, কি মন্তব্য করছেন এসব বিষয়গুলো সম্পূর্ণই তার নিজস্ব। কিন্তু প্রিয়জনের এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করে বসা কোনো মানুষই ভালো চোখে দেখবেন না। যারা না বুঝে এই কাজগুলো করে ফেলেন তাদের জন্য সম্পর্ক ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রকাশ্যে ঝগড়া:

সম্পর্কের মাঝে কখনও কখনও সামান্য কলহ হতেই পারে। কথায় আছে, ঝগড়া না হলে সম্পর্ক দৃঢ় হয়না। তবে সেটা অপ্রকাশ্যে হওয়াটাই উত্তম। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েন যে প্রিয়জনের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কটাও প্রকাশ্যেই করে ফেলেন। সেটা টুইটার হোক কিংবা ফেসবুক! এর ফলে দু’জনের মধ্যে কি নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে, কেনো হচ্ছে, কি মন্তব্য তারা করছেন এই সবই দেখতে পান অন্য ব্যবহারকারীরা। অনেকে নানা নেতিবাচক মন্তব্যও করেন। এরফলে দু’জনের যে কেউ বিব্রত বোধ করতে পারেন। ফলাফল সম্পর্ক জোড়া লাগা দূরে থাক, ভেঙে যেতে পারে। তাই তর্ক-বিতর্ক হলেও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে না হওয়াই ভালো।

অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ:

সামাজিক যোগাযোগের কল্যাণে জীবনের চলার পথে দেখা হওয়া অনেকের সঙ্গেই এখন সাক্ষাতের সুযোগ হচ্ছে। কখনও কখনও সাবেক হওয়া প্রিয়জনের দেখাও মিলছে কারও কারও। স্মৃতিতে ফিকে হওয়া কিছু সুন্দর মুহুর্ত তখন সবারই মনে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। তাই বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ না দেখানোই ভালো। কেননা, বর্তমানের প্রিয়জনটি তা সহজভাবে নাও মেনে নিতে পারে। উল্টো আপনার উপর তার আস্থা হারিয়ে যেতে পারে। সাবেক প্রিয়জনের প্রতি প্রকাশ্যে দরদ দেখিয়ে উল্টো হারাতে পারেন আসল মানুষটিকে।

মিথ্যে বলবেন না:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সকলেই যে নিজেকে মেলে ধরেন তা নয়। তাই বলে মিথ্যে তথ্য দেয়া কখনই কাম্য নয়। যেমন প্রিয়জনকে বললেন আপনি এখন খুব ব্যস্ত, সময় দিতে পারবেন না। কিন্তু দেখা গেল আপনি অন্য কোনো মানুষের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। রেস্টুরেন্টে খাচ্ছেন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলফি পোষ্ট করছেন। আর তা যদি প্রিয় মানুষটির চোখে পড়ে যায় তাহলে কী ঘটবে আপনারাই কল্পনা করুন!