সাভারে ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা তাজুলের সহযোগী গ্রেপ্তার

শুক্রবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৮

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে : সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ তাজুলের বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী রুবেল মির্জাকে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আভিযানে সাভারের বক্তারপুর মহল্লার বেদে পল্লী থেকে গ্রেফতার হয় সে। মাদক ব্যবসায়ী রুবেল ছাত্রলীগ নেতা তাজুলের একই কমিটির সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সাভার সার্কেলের পরিদর্শক নুসরাত জাহান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক্যদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল সাভারের বক্তারপুর মহল্লার বেদে পল্লী এলাকা থেকে সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রুবেল মির্জা ও শারমীন নামে এক নারীর দেহ তল্লাশী করে তাদের কাছ থেকে মোট ১২০ পিস উয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে তাজুলের এই সহযোগী গ্রেপ্তার মাদক ব্যবসায়ী রুবেল ও ওই নারীর বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মালেক বানু।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, ছাত্রলীগ নেতা তাজুলের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিল গ্রেপ্তারকৃত রুবেল। চাঁদাবাজিসহ সকল অপর্মের রুবেলকে নিয়মিত দেখা যেত তাজুলের সাথে। এছাড়া রুবেলের সাথে তাজুল বিভিন্ন সময় মাদকসেবন করে বলেও অভিযোগ তার।

কিছুদিন আগের ঘটনা, সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একটি কক্ষ অবৈধভাবে দখল করে টর্চার সেল গড়ে তুলেছিল ছাত্রলীগ নেতা তাজুল। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল ও সে ওই কক্ষের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। কেউ মিছিলে বা তাদের কর্মসূচিতে যোগ না দিলে ওই কক্ষে নিয়েই মারধর ও নির্যাতন চালানো হতো- এমন অভিযোগ ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এছাড়া ওই কক্ষে কলেজের মেয়েদের ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করার অভিযোগও উঠে বেশ কয়েকবার। এ কারণে কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষরাও তাজুলের ‘টর্চার সেল’ হিসেবেই জানতো ওই কক্ষটিকে। পরে বহুশিক্ষার্থীর অভিযোগের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: এনামুর রহমানের নির্দেশে তাজুলের নির্যাতন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিতে বাধ্য হয় আওয়ামীলীগ নেতারা।

তাজুলের নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারীরাও। তাজুলের বিভিন্ন অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খলার প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় তাদেরও হতে হয়েছে নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার।মাদক সেবনের জন্য কলেজের ছাদের চাবি না পেয়ে কলেজের অফিস সহকারী গাজী সামসুদ্দিনকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ও নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জমখ করে তাজুল এবং তার ক্যডাররা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তাজুলকে প্রধান আসামী করে ৬জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলাও করেছিল ভুক্তভোগী সামসুদ্দিন।

তাজুলের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সাভারের ব্যবসায়ীরা। ঈদসহ বিভিন্ন উপলক্ষ এলেই ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে শুরু হয় তাজুলের চাঁদা আদায়। চাঁদা জন্য সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের এক বাস কাউন্টার মালিককে ডেকে নিয়ে হুককি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন এই তাজুলের বিরুদ্ধে।

সাংবাদিকরাও রক্ষা পায়নি তাজুল নামক এই ছাত্রলীগ নেতার নির্যাতন থেকে। কিছুদিন আগে এক সাংবাদিককে সাভার বাসস্ট্যান্ডের এক রেষ্টুরেন্টে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন চালায় সে।

এদিকে নিষিদ্ধ ইয়াবার সথে ছাত্রলীগ নেতার সম্পৃক্ততা ও গ্রেফতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা (উত্তর) ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকার ঘটনায় ঐ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।