লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি ১২ শতাংশ আয় বেড়েছে

বুধবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮

ঢাকা : পোশাক শিল্পকে সামনে রেখে বেড়েছে দেশের রফতানি আয়। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম পাঁচ মাসে রফতানি আয় হয়েছে এক হাজার ৭০৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের এ সময়ে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৫২৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রফতানি আয়ের এ প্রবৃদ্ধিতে বরাবরের মতো শীর্ষে ছিল দেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি অর্থবছরে জুলাই-নভেম্বর সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৪১৮ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর পোশাক শিল্পের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখন আর নেই। বিদশি ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে আমরা সক্ষম হয়েছি। যার প্রভাবে দেখা যাচ্ছে পোশাক শিল্পের রফতানি আয় দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তবে এটা আরো বাড়তো যদি আমাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য ক্রেতারা দিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্থিতিশীল আছে। যার কারণে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

ইপিবির পরিসংখ্যান বলছে, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর পাশাপাশি গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও বেড়েছে রফতানি আয়। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রফতানি আয় অর্জিত হয়েছিল এক হাজার ৪৫৬ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে নভেম্বরে ৩৪২ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এটি গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের নভেম্বরে রফতানি হয়েছিল ৩০৫ কোটি ডলারের পণ্য।

আলোচ্য সময়ে কৃষিপণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি। প্লাস্টিক পণ্যের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে চার কোটি ৮৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। তবে পাট ও পাটপণ্য রফতানি আয় ২২ শতাংশ কমেছে। এ খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। একইভাবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের রফতানি আয়ও কমেছে। এ খাতে আয় হয়েছে ৪৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার আয় হয়। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রফতানি করে ৩৯ বিলিয়ন (তিন হাজার ৯০০ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে চার শতাংশ বেশি।