স্ত্রী ও শ্যালিকার টাকায় নির্বাচন করবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা মান্না

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮

খালিদ হাসান, বগুড়া প্রতিনিধি : বাস করেন রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে। তবুও তার কোন গাড়ি নেই। নিজের চেয়ে স্ত্রী বেশি সম্পদশালী। স্ত্রী ও প্রবাসী শ্যালিকার টাকায় নির্বাচন করতে চান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মান্না তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক। এছাড়াও তিনি সাবেক ডাকসুর ভিপি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৭ লাখ ৪২ হাজার ৪৯২ টাকা। তবে ব্যাংকে মাত্র ১০ হাজার ৫৭৭ টাকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া নগদ ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯১৫ টাকা, শেয়ারবাজার ও বন্ড বাবদ ২০ লাখ, ৫ তোলা স্বর্ণালংকার বাবদ ৩৫ হাজার এবং ১ হাজার ৬১২ বর্গফুটের একটি বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

স্ত্রী মেহের নিগারের অস্থাবর সম্পদ ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩১ টাকা। মান্নার স্থাবর সম্পদ বলতে শুধু ৩২ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাড়ি। তাঁর স্ত্রীর রয়েছে রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় ৪২ অযুতাংশের জায়গাসহ ভবন এবং সুনামগঞ্জের সদরপুর ও ষোলঘর মৌজায় ৪৯ শতাংশ জমি। ২০০৮ সালে একই আসনে জমা দেয়া হলফনামায় দায়দেনা ছিল মাত্র ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ১০ বছরে দায়দেনা বেড়ে ৫৩ কোটি ৪৫ লাখ ৪৮ হাজার ২৪৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতিক চাইলেও সংস্কারপন্হী হওয়ায় তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামীলীগ। এ আসন থেকে তিনবার নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনতা মুক্তি পার্টির হয়ে কাস্তে মার্কায় আর ’৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

হলফনামায় তিনি পেশা ব্যবসা, রাজনীতি, লেখক ও কলামিস্ট উল্লেখ করেছেন। তাঁর আয়ের উৎস ব্যবসা। এছাড়াও হলফনামায় তিনটি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। দুটি মামলা হয়েছে সিএমএম আদালতে। এগুলো তদন্তাধীন।

অন্য মামলাটি বিশেষ সামরিক আদালতে। এ মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, হলফনামায় সত্য ও নির্ভূল তথ্য দেয়া হয়েছে। দেনা বাড়ার কারন হিসাবে তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে সরকারের অব্যাহত চাপের মধ্যে টিকে আছি, এটাই তো অনেক বড় ব্যাপার।’