যে যেখানেই আছেন, এক হয়ে মাঠে নামুন : দুদু

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮

ঢাকা: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতাকর্মীদের যার যার অবস্থান থেকে এক হয়ে ভোটের মাঠে নেমে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান ও চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর) আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সকল নেতাকর্মীদের এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। সকল ভেদাভেদ ভুলে যে যেখানে আছেন সেখান থেকে দলের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।’

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যতীত এই সরকারের আমলে কেউ নিরাপদ নয়। বিরোধীদলকে কোনও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। মানুষ মনের ভাব এই সরকারের আমলে প্রকাশ করতে পারে না। সাংবাদিকরাও আজ নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারছেন না।’

‘আওয়ামী লীগ ওয়াদা ভঙ্গ করেছে’ এমন মন্তব্য করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনে ভোটের আগে ওয়াদা করে বলেছিলো- ১০ টাকা কেজি চাল দেবে, ঘরে ঘরে চাকুরি দেবে। কিন্তু আজ চাকুরির জন্য ঘুষ হিসেবে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা গুণতে হচ্ছে। তারপরও সেই ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মতাদর্শের লোক হতে হবে। এভাবে কোনও দেশ চলতে পারে না।’

নির্বাচন কমিশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুদু বলেন, ‘গোটা জাতি আজ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আপনারা জনগণের আস্থা ফেরাতে না পারলে জনগণই আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে দেশবাসীকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিন।’

সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরও লাগাতারভাবে বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দেখিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের আলামত হতে পারে না।’

এসময় তিনি অবিলম্বে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় গ্রেফতার এসব নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে দুদু বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে তো কোনও বিশেষ একপক্ষেকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া নয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ভঙ্গ করে সরকার দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। সরকারি খরচে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে দ্রুত এই অসামঞ্জস্য দূর করা দরকার।’