রিটার্নিং অফিসাররা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক নন: রিজভী

সোমবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৮

ঢাকা : রিটার্নিং অফিসাররা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আন্তরিক নন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাতে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রিটার্নিং অফিসাররা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আন্তরিক নন। তারা সরকারের মুখ চেয়েই কাজ করছে। তারা ইনক্লুসিভ নির্বাচন অপেক্ষা আওয়ামী রাজনৈতিক স্বার্থের দিকেই মনোযোগী বেশী। তারা মানুষের ক্ষোভের আঁচ টের পাচ্ছেন না।

এই রিটার্নিং অফিসারদের কারণেই এদেশের ক্ষণজন্মা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের পরিবারের কাউকে নির্বাচন করতে দেয়া হচ্ছে না। এই রিটার্নিং অফিসাররাই শহীদ জিয়ার সহধর্মীনি ‘গণতন্ত্রের মা’ বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। আমরা দেশবাসী এই অন্যায়, এই অবিচার কখনোই ভুলবো না। জনগণের স্মৃতির পর্দা ঝাপসা নয়। অপমানিত জনগণ একদিন সকল অন্যায় কড়ায়-গন্ডায় আদায় করে নিবে।

তিনি বলেন, রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন রাজশাহীর রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হক সাহেবের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। সম্পূর্ণ বেআইনী ও রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলের পর আপিলের জন্য বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রিটার্নিং অফিসার ব্যারিস্টার আমিনুল হক সাহেবকে হস্তান্তর করছেন না। তবে আগামীকালও কাগজপত্র দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। আগামীকালও যদি কাগজপত্র দেয়া হয় তাহলে ঢাকায় এসে আপিল করা তার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। ব্যারিস্টার আমিনুল হক সাহেবের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের কাগজপত্র আটকে রাখা গভীর চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।

রিজভী বলেন, কোনভাবেই ব্যারিস্টার আমিনুল হককে আটকাতে না পেরে বানোয়াট কাহিনী রচনা করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে এখন বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও না দেয়ার উদ্দেশ্যই হলো-তিনি যেন আপিল দায়েরের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার আনীত কাল্পনিক অভিযোগ খন্ডন করতে না পারেন। রাজশাহী বিএনপির জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদের আসন্ন নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য আমি রাজশাহীর রিটার্নিং অফিসারের সরকারি নির্দেশ পালনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, বলেন, রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তফাও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারও মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসার বাতিল করেছেন। নাদিম মোস্তফা মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের জাবেদা নকল তুলতে তাৎক্ষণিক আবেদন করেছিল। তবে রিটার্নিং অফিসার টালবাহানা করে আজও জাবেদা নকল সরবরাহ করেননি। আগামীকাল কখন সেটি পাওয়া যাবে এবং কখন সে রাজশাহী থেকে ঢাকা রওয়ানা হবে সেটিরও কোন নিশ্চয়তা নেই। রিটার্নিং অফিসার খুব নিখূঁতভাবে পাটিগণিতের অংক কষেই বিএনপি নেতাদের মনোননয়নপত্র বাতিল করেছেন এবং বাতিলের সিদ্ধান্তের জাবেদা নকলও আটকে রাখছেন। উদ্দেশ্য একটাই বিএনপির প্রার্থীরা যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে না পারে।

তিনি বলেন, মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য মনোয়ার হোসেন খান মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্থানীয় আদালতে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়নি। ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টের পর জজকোর্টে তার জামিন আবেদন নাকচ হলে হাইকোর্টে জামিনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার জন্য জজকোর্ট থেকে কাগজপত্র তুলতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী এপিএস-২ সাইফুজ্জামান শেখরের নির্দেশে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডাররা সেখানে ব্যাপক বাধা প্রদান করে। বিএনপির আইনজীবীরা আওয়ামী ক্যাডারদের হুমকির মুখে জজকোর্ট থেকে মনোয়ার হোসেন খানের জামিন নামঞ্জুরের কাগজপত্র তুলতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনরা নিজ নিজ এলাকায় গডফাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এরা দানবিক কায়দায় বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে আইনী সহায়তা পেতেও প্রচন্ড বাধার সৃষ্টি করছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। তিনি সারা কোতোয়ালীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। একইভাবে কক্সবাজার জেলাধীন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। আমি তাদেরকে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।