সরকা‌রের রোষানলে ম‌নোনয়ন জমা দেননি জা‌হিদ

শনিবার, ডিসেম্বর ১, ২০১৮

ঢাকা: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, নেছারাবাদ) থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা ও বিএনপির বিশেষ দূত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জাহিদ এফ সরদার সাদী মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

সাদীর পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার লক্ষ্যে গত ১৫ নভেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার নির্বাচনী এলাকার শতশত নেতা-কর্মীরা। তবে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে দেশে ফিরতে না দেয়ায় তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি তার সমর্থকরা।

এ প্রসঙ্গে পিরোজপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নেতা জাহিদ এফ সাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আওয়ামী বাকশালী সরকার বিভিন্ন মামলার বেড়াজালে ফেলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করে ঘৃন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন মামলা আর প্রাণনাশের কারণে দেশে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানও। আমার পক্ষে এলাকাবাসী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পরও আমি একই সমস্যায় মনোনয়নপত্র জমা দেইনি। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না আমি।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে জাহিদ এফ সরদার সাদী জানান, ‘বাকশালী শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচনের বাহিরে রেখে আমিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না।’

‘এই নির্বাচন আন্দোলনের অংশ, যে কারণে আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আমার নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুর-১ আসনের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

জাহিদ সরদার টেলিফোনে আরো বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা আছে। সেজন্য দেশে ফিরতে পারছি না। মামলায় জামিন নেয়ার আশু সম্ভবনাও দেখা যাচ্ছে না। আশঙ্কা করা হচ্ছে দেশে ফিরলেই হাসিনা সরকারের রোষানলে আমার প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাহিদ এফ সরদার সাদী তার ফুফাতো ভাই কমরেড সিরাজ সিকদারকে খুনের অভিযোগে শেখ মুজিবুর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন। সেদিন তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের ফাঁসিও দাবি করেন। আর এ নিয়ে দেশে-বিদেশে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। এ জন্য তার বিরুদ্ধে সে সময় দেশদ্রোহিতার মামলা করে মুক্তিযাদ্ধা লীগের সভাপতি। ওই মামলার অপর আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দেশের সরকারি গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশ্বস্ত জাহিদ এফ সরদার সাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত গভীর সম্পর্ক থাকার ফলে বর্তমান সরকারকে কুটনৈতিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেনস্থা হতে হয়েছে।

সাদী বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করছি। তবে নির্বাচনে নিজের মনোনয়ন জমা না দিলেও ২০ দলীয় জোট যাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষে কাজ করে তাকে বিজয়ী করে আনতে আমার অনবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, নেছারাবাদ) পিরোজপুরের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব মরহুম আবদুস সালাম তালুকদারের দৌহিত্র জাহিদ এবং সাবেক সচিব মরহুম আজহার আলী সরদারের যোগ্য উত্তরসূরি জাহিদ এফ সরদার সাদী নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে মনোনয়ন দেয়া হয় মোস্তফা জামান হায়দার এবং শামীম সাঈদীকে। দলীয় কৌশলগত কারণে একের অধিক ব্যক্তিকে পিরোজপুর ১ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেনকেও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

এ আসনে অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশালীদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।