মা ছাড়াই জন্ম নিতে পারে মৌমাছি!

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৮

ঢাকা : প্রকৃতির অনন্য এক সৃষ্টি হলো মৌমাছি। অন্যান্য প্রাণীর সাথে তার যেন মিল পাওয়া যায় না। মৌমাছিদের মাঝে যোগাযোগের দারুণ একটি পদ্ধতি আছে, তারা প্রচুর শ্রম দিয়ে মধু তৈরি করে, আর তাদের পরাগায়ন পৃথিবীর বেশিরভাগ উদ্ভিদের জন্য জরুরী। শুধু তাই নয়, মৌমাছিদের প্রজনন পদ্ধতিও অনন্য। একাধিক পিতা থেকে জন্ম নিতে পারে একটি মৌমাছি, এমনকি মা ছাড়াও তাদের জন্ম হতে পারে! বায়োলজি লেটারস জার্নালে প্রকাশিত ইউনিভার্সিটি অব সিডনির গবেষণায় জানা যায় এ তথ্য।

কীটপতঙ্গের হাইমেনপটেরা বর্গের অন্তর্ভুক্ত পতঙ্গ মৌমাছি। এই বর্গের পতঙ্গরা হ্যাপ্লয়েড, অর্থাৎ একটি মৌমাছির শরীরে কয়টি ক্রোমোজোম আছে, তার ওপর নির্ভর করে তার লিঙ্গ। নিষিক্ত ডিমে দুই ভাগ ক্রোমোজোম থাকে (পিতা ও মাতা থেকে) এবং এই ডিম থেকে স্ত্রী মৌমাছি জন্ম নেয়। অন্যদিকে নিষিক্ত না হলে সেই ডিমে এক ভাগ ক্রোমোজোম থাকে ও সেই ডিম থেকে পুরুষ মৌমাছি জন্ম নেয়।

এ ধরনের প্রজননে দারুণ কিছু ফলাফল দেখা যায়। দুই লিঙ্গের মাঝেই ‘ক্লোন’ জন্ম নিতে দেখা যায়। আবার কিছু কিছু মৌমাছিতে দেখা যায় গাইনঅ্যান্ড্রোমর্ফিজম, একে সেক্সুয়াল মোজাইকও বলা হয়। এসব মৌমাছির শরীরে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় ধরণের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়।

উড়ন্ত অবস্থায় সাধারণত ১০-১৫টি ড্রোন বা পুরুষ মৌমাছির সাথে মিলিত হয় রানী মৌমাছি। একাধিক পুরুষের স্পার্ম বা শুক্রানু দ্বারা ডিম্ব নিষিক্ত হতে পারে। তাই একটি মৌমাছির একাধিক পিতা থাকতেই পারে।

গবেষকরা একটি মৌচাক থেকে ১১টি সদ্যজাত গাইনঅ্যান্ড্রোমর্ফ মৌমাছি সংগ্রহ করেন। এরপর তাদের ওপর জেনেটিক অ্যানালাইসি করা হয়। দেখা যায়, ১০টি মৌমাছির পিতা ছিল একাধিক, এমনকি ৩টি পর্যন্ত। ১১ নম্বর মৌমাছিটি আরও অদ্ভুত। তার জিনে মায়ের কোনো চিহ্নই নেই। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, দুইটি পুরুষের শুক্রাণু মিলিত হয়ে এই মৌমাছির জন্ম। হাইমেনপটেরা পতঙ্গে এই প্রথম দেখা গেলো এমন স্পার্ম ফিউশন।

মৌমাছির মতো সামাজিক পতঙ্গগুলো প্রজননের ক্ষেত্রে অনন্য। কিন্তু তারপরেও একটি চাকে ১১টি গাইনঅ্যান্ড্রোমর্ফের উপস্থিতি অস্বাভাবিক। গবেষকরা ধারণা করছেন, রানী মৌমাছির কোনো একটি জেনেটিক মিউটেশনের কারণেই এই চাকে তাদের পরিমাণ এত বেশি।

সূত্র: আইএফএলসায়েন্স