ঠাণ্ডাজনিত কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা ও সমাধান

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৮

স্বাস্থ্য ডেস্ক : সবার কাছেই শীতকাল আনন্দের ঋতু হলেও কফ, সর্দি-কাশি, জ্বর, হাঁপানি ও নিউমোনিয়ার মতো কিছু ঠাণ্ডাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকেই শীতকালের দিনগুলো খুবই কষ্টে অতিবাহিত করেন।

তবে শীতকালীন এসব রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে অনুসরণ করতে পারেন কিছু নিয়ম।শীতের অসুখের বলতে ঠাণ্ডাজনিত সর্দি-কাশির সমস্যা। এই সর্দি-কাশির শুরুর সাথে গলা ব্যথা, গলায় খুশখুশ ভাব, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি ঝরা এবং ঘন ঘন হাঁচি।

এই সব উপসর্গের সাথে হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথা ভার ভার লাগা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। এটা মূলত শীতকালের শরীরের সাধারণ সমস্যা যা কিনা ৭-১০ দিনের মধ্যে নিজ থেকেই ভালো হয়ে যায়।

কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে জ্বর ও কাশিটা খুব বেশি হয় যা থেকে শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং এটা অনেক দিন ধরে স্থায়ী হয়। শীতের অসুখের মূল অংশটাই জুড়ে থাকে শ্বাসতন্ত্রের ওপর, যা থেকে শ্বাসকষ্টের উৎপত্তি হয়ে থাকে। শীতে শ্বাসতন্ত্রজনিত ফুসফুসের প্রদাহ সংক্রান্ত অসুখ নিউমোনিয়া শিশুদের জন্য একটি প্রাণঘাতী রোগ। দ্রুত চিকিত্সা এবং সচেতনতার অভাবে প্রতি বছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু মারা যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাপমাত্রার পরিবর্তন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক শক্তি বা ইমিউন সিস্টেম আক্রান্ত করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শীতকালে বাতাস অত্যন্ত শুষ্ক থাকে, ফলে প্রশ্বাসের বায়ু প্রয়োজনীয় পরিমাণে আর্দ্র হতে পারে না। এর ফলে জীবাণু শ্বাসতন্ত্রের ভেতরে ঢোকে ও বিস্তার লাভ করে।

এ সময় পানি খাওয়া কম হয় বলে শরীরে পানিশূন্যতা থাকে এবং শ্বসনতন্ত্র থেকে যে প্রতিরোধক ব্রংকিয়াল নিঃসরণ হয়, যা শ্বাসনালির ভেতরের জীবাণুকে বের করে দেয়, তা শুকিয়ে যায়। ফলে জীবাণু বের হতে পারে না এবং সহজেই বিস্তার লাভ করে। শুষ্ক আবহাওয়া বাতাসে ভাইরাস ছড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া শীতকালে ধুলাবালির পরিমাণ বেড়ে যায়। ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস হাঁপানি রোগীর শ্বাসনালিকে সরু করে দেয়, ফলে হাঁপানির টান বাড়ে।

শীতে অসুখ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে আপনাকে। যেমন- শীতের তীব্রতা অনুযায়ী গরম কাপড় ও কান-ঢাকা টুপি পরা এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করা। ভিটামিন সি-যুক্ত ফল যেমন লেবু, কমলা ইত্যাদি খেতে হবে। তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা।

মাঝেমধ্যে হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা। হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধোয়ার অভ্যাস করা। হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করুন। ধূমপান পরিহার করা। মুক্ত ও নির্মল বাতাসে হাটার অভ্যাস করা।

প্রয়োজনে নিতে হবে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা। অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রোগীরা সব সময় ইনহেলার সঙ্গে রাখুন। ধুলাবালি এড়িয়ে চলা। ধুলাতে সমস্যা হলে বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন।