২৩ ডিসেম্বর মাঠে নামবে সেনাবাহিনী

বুধবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৮

ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে মাঠে নামবে সশস্ত্র বাহিনী। নির্বাচনের দুইদিন পর পর্যন্ত মাঠে থাকবে তারা। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত এক সভায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভোটের আগে ও পরে ১০ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামানোর বিষয়ে ইসির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা চূড়ান্ত করা সামনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর। সেই বৈঠকেই নির্বাচনে কত সংখ্যক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হবে, এবং কতদিনের জন্য মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এর আগে গত ২২ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছিলেন, ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর ছোট ছোট টিম মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, ১৫ ডিসেম্বরের পর সশস্ত্র বাহিনীর ছোট টিম পুলিশের সঙ্গে দেখা করবে। প্রতিটি জেলায় থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর এসব ছোট ছোট টিম। এসব টিমকে নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে পুলিশকে। তবে মঙ্গলবারের সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৫ ডিসেম্বরের পর সেনাবাহিনীর একাধিক টিম মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর ২৩ ডিসেম্বর থেকে তারা দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামবে।

তবে নির্বাচনে ভোটের আগে ও পরে ১০ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যরা মাঠে রাখার বিষয়ে কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র। জানা গেছে, এবারও ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার এর আওতায় সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনে ভোটের আগে ও পরে ১০ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর নির্দিষ্টসংখ্যক সদস্য মাঠে রাখার বিষয়ে কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তাদের নামার আগে এ বাহিনীর কিছুসংখ্যক সদস্য মাঠ পর্যায়ে রেকি করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জানা যায়, অর্থ বরাদ্দবিষয়ক সভায় পুলিশ নির্বাচন উপলক্ষে চেয়েছে ৪২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাতেই খরচ হবে ৭৬ কোটি টাকা। এই চাহিদার যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এক চিঠিতে বলেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচন অতীতের তুলনায় অনেক বেশি ঘটনাবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিবেচনায় ভোটের আগে ও পরে সাত দিন মাঠে থাকতে চায় পুলিশ। অপরদিকে আনসার বাহিনী চেয়েছে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা। বিজিবি চেয়েছে ৭৩ কোটি টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যদিও এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ ধরা রয়েছে ৪১২ কোটি টাকা। মোট নির্বাচনী বরাদ্দ ৭০২ কোটি টাকা।

আমরা তাদের বলেছি, যৌক্তিকতা বিবেচনায় আমরা সাত দিনের মধ্যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য ব্যয়ের চাহিদা দিতে। সেগুলো পাওয়ার পর বিবেচনা করা হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১৩ ডিসেম্বর সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ওই বৈঠকের পরই আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের কত বাজেট সেটা জানতে চেয়েছি।

আমরা এবার আনসার বাহিনীকে শতভাগ অগ্রিম বরাদ্দ দেব। আর অন্যান্য বাহিনীকে বাজেটের ৫০ শতাংশ অগ্রিম বরাদ্দ দেব। বাকি টাকা পরে সমন্বয় করা হবে। ইসি সচিব বলেন, এবার গ্রাম পুলিশকেও নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা হবে।

সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভোটের আগে ও পরে ১০ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামানোর বিষয়ে ইসির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা চূড়ান্ত করা হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর।

উল্লেখ্য দশম সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৫ দিন মাঠে ছিল। তারা সাধারণ এলাকায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন এলাকায় কমিশনারের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন।