জোটে কে কত আসন পাচ্ছে

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৮

ঢাকা: ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ২০টি আসন দিয়েছে বিএনপি। তবে ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির আসন বণ্টন সুরাহা এখনো হয়নি। গতকাল সোমবার রাত ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জামায়াত ছাড়াও ঐক্যফ্রন্টকে ১৯ ও এলডিপিকে ৪টি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা গতকাল দিনভর জোটের শরিক ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেন। ঐক্যফ্রন্ট নেতারাও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে গণফোরামকে সর্বোচ্চ ১০ আসন ছাড়তে পারে বিএনপি। এ ছাড়া নাগরিক ঐক্যকে ২-৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জেএসডি) একটি এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকেও একটি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিএনপি তাদের ২০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, শরিকদের সঙ্গে আলোচনা প্রায় শেষ। কিছু আলোচনা বাকি আছে। তাও শেষ হয়ে যাবে।

২০-দলীয় জোটের শরিক জামায়াত শেষ পর্যন্ত ৩৫টি আসন পেতে দরকষাকষি করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৮ আসনে নির্বাচন করেছিল জামায়াত। এর মধ্যে ৫টি উন্মুক্ত ছিল। ৩৩ আসন জামায়াত জোটগতভাবে নির্বাচন করেছিল। গতবারের ৩৩টির ২৭টিতে এবারও জোটের মনোনয়ন চায় জামায়াত। ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে ব্যাপক দরকষাকষি করছে দলটি।

জামায়াতের সঙ্গে যে আসনগুলো নিয়ে বিএনপির দেনদরবার চলছে, সেগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-১ ও ৬, নীলফামারী-৩, লালমনিরহাট-১, রংপুর-৫, কুড়িগ্রাম-৪, গাইবান্ধা-১ ও ৪, বগুড়া-৪, সিরাজগঞ্জ-৪, পাবনা-১ ও ৫, যশোর-২, বাগেরহাট-৩ অথবা ৪, খুলনা-৫ ও ৬, সাতক্ষীরা-২ ও ৩ অথবা ৪, পিরোজপুর-২, সিলেট-৫ ও ৬, কুমিল্লা-১১, চট্টগ্রাম-১৫ ও কক্সবাজার-২।

২০-দলীয় জোটের শরিক এলডিপির অলি আহমদ চান ৬টি আসন। তাকে বিএনপি ৪টি আসনে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। এগুলো হলো- অলি আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪), দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), আবদুল করিম আব্বাসী (নেত্রকোনা-২)। এ ছাড়াও এম ইয়াকুব আলী (চট্টগ্রাম-১২) এবং অ্যাডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ (ময়মনসিংহ-১০) আসন নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১), কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (চট্টগ্রাম-৫), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান (পঞ্চগড়-২), মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রিটা রহমান (নীলফামারী-১), জমিয়তে ওলামায়ের মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস (যশোর-৫), জমিয়তে ওলামায়ের শাহীনুর পাশা চৌধুরী (সুনামগঞ্জ-৩) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমারকে যশোর-৪ আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি।

এ ছাড়াও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের (হবিগঞ্জ-৪), এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (নড়াইল-২), জাপা (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআই ফজলে রাব্বী (গাইবান্ধা-৩), দলের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের (পিরোজপুর-১) জন্য জোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর বাইরে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইদ আহমেদ (নারায়ণগঞ্জ-৫), বাংলাদেশ লেবার পার্টি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-১ আসনে মনোনয়ন চাইছেন।