চূড়ান্ত আপিলে খালাস না পেলে নির্বাচনের সুযোগ নেই খালেদা জিয়ার

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৮

ঢাকা : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ আদালত থেকে সম্পূর্ণ খালাস না হলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

আজ মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না হাইকোর্ট দেওয়া এমন আদেশের পর দুদকের আইনজীবী সাংবাদিকদের একথা জানান।

হাইকোর্টের এমন পর্যবেক্ষণের পর, মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) দুদকের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচারিক আদালতে কারও বিরুদ্ধে দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। যতক্ষণ না, আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে জামিন না দেয়।

এর আগে দুর্নীতির দায়ে বিচারকি আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্সড) স্থগিত চেয়ে করা পাঁচ বিএনপি নেতার আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট।

আদেশের পরে দুদকের এ আইনজীবী বলেন, ‘আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পাঁচটি দরখাস্তের শুনানি হয়েছে। ওইসব দরখাস্তের মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল সেনটেন্সড সাসপেন্ড করার। সেটা গত দুদিন শুনানি হয়েছে। আজকে আদালত আদেশ দিয়ে আবেদনগুলো খারিজ করেছেন।

‘কিন্তু কনভিকশন বা তাকে যে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেটির স্থগিত নেই। বিশেষ করে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(ঘ) উল্লেখ করে বলেছিলাম, সেই সমস্ত ব্যক্তি জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বা সংসদ সদস্য হতে পারবে না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অন্যূন দুই বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর সময় অতিবাহিত না হয়।’

তিনি বলেন, যারা দরখাস্ত করেছিলেন, তারা সবাই দণ্ডপ্রাপ্ত। তাদের দণ্ড থেকে মুক্তি লাভ করেননি। তাদের পাঁচ বছর সময় অতিবাহিত হয়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যদি তাদের দণ্ড স্থগিত করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়, তা হবে আমাদের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো অবকাশ থাকবে না বলে আমি মনে করি।

খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কি না জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, অবশ্যই। এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। এখানে শর্ত হলো দুটি। তা হলো, তিনি যদি দণ্ডিত হন, তাহলে পারবেন না। এরই মধ্যে তিনি যদি তার দণ্ড বা সাজা থেকে মুক্তিলাভ করেন, তাহলে তার সাজা বাতিলের তারিখ থেকে পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

‘কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেকোনো আদালত তার রায় দিয়ে এই সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারেন না।’

তিনি বলেন, আমাদের আপিল বিভাগ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান দ্বারা তৈরি। তাদের সংবিধান দিয়ে চলতে হবে। কাজেই কোনো আদালত এটাকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না।

আপিল বিভাগ এই দণ্ড স্থগিত করতে পারেন কি না জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপিল বিভাগ কী করবে, সেটা আমি বলতে পারি না।