ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী রমেশ চন্দ্র

সোমবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৮

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংগ্রহণের জন্য দুজনকেই দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের দখলে থাকলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয়। আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে আসনটি নিজেদের করে নেন মির্জা ফখরুল। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনটি উদ্ধার করেন আওয়ামী লীগের সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।

মোট ভোটার

১৯৮৪ সালে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলাকে ভেঙে তিনটি জেলা করা হয়। এর মধ্যে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের মাঝখানে ঠাকুরগাঁও জেলা। এ জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬০০ বর্গমাইল। মূলত ঠাকুরগাঁও-১ আসন সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২১ হাজার ৬২২ জন। তার মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৯৬ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫২৬ জন।

নিবার্চনী পরিসংখ্যান

২০০৮ সালে নবম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৬ হাজার ৬৯০ ভোটের ব্যাবধানে মির্জা ফখরুলকে পরাজিত করেন। নৌকা পায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ১০১ ভোট, ধানের শীষ পায় ১ লাখ ২০ হাজার ৪১১ ভোট।

এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৯৬২ ভোটে ব্যাবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করেন। ধানের শীষ পায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ ভোট আর নৌকা পায় ৯৬ হাজার ৯৪৮ ভোট। অন্যদিকে এককভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নূরে আলম চৌধুরী ১৬ হাজার ৬৪৭ ভোট পান।

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম পান ৬২ হাজার ৭০৯ ভোট। বিএনপি মির্জা ফখরুল ধানের র্শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৫৮ হাজার ৩৬৯ ভোট। আলাদা নির্বাচন করে জামায়াতের রফিকুল ইসলাম পান ১৭ হাজার ২৪২ ভোট। তবে জামায়াতের সঙ্গে একত্রে হিসাব করলে আরও ১৪ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকেন মির্জা ফখরল।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে খাদেমুল ইসলাম পান ৫৭ হাজার ৫৩৫ ভোট। বিএনপি মির্জা ফখরুল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৩৬ হাজার ৪০৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২১ হাজার ১২৯ ভোট। তবে আলাদাভাবে নির্বাচন করে জামায়াত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পান ২৬ হাজার ৮০০ ভোট। আর জাতীয় পার্টি প্রার্থী রেওয়ানুল হক ইদু চৌধুরী পান ২১ হাজার ৫০ ভোট।

আশাবাদী দুই দলই

রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁওকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলাসহ বর্তমান সরকারের অসমাপ্ত সব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’

রমেশ চন্দ্র সেন আরও বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের কিছু রিজার্ভ ভোট রয়েছে, যা আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ব্যক্তিগত জীবনে আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। সারা জীবন মানুষের সেবা করেছি, আগামীতেও সেবা করে যেতে চাই।’

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর রহমান বলেন, ‘বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। এখানে সব কিছুই নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলে। দলের বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীরা জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথার বাইরে যায় না। নেতাকর্মীরা একে-অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি আগের তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। এর প্রমাণ মেলে পৌরসভা ও সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে। দুটি নির্বাচনেই বিএনপি প্রার্থী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছে।