ট্রাম্পকে জব্বর শিক্ষা দিলেন ১৮ বছরের তরুণী!

সোমবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভালোই শিক্ষা দিয়েছেন ১৮ বছরের এক মেয়ে। তিনি ৭২ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ফারাক বুঝিয়েছেন। এ ঘটনায় রাতারাতি বদলে গেছে তার জীবন, পেয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি। ফোন, টুইট আর মেসেজের বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন ওই ভারতীয় তরুণী!

বুধবার ওয়াশিংটনের তাপমাত্রা শূন্যের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমেছিল। এ নিয়ে ট্রাম্প টুইট করেন, ‘হিংস্র ও দীর্ঘায়িত শীত সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। কোথায় গেল বিশ্ব উষ্ণায়ন!’

কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্পের ওই টুইট লক্ষাধিক বার রি-টুইট হয়। যার বেশির ভাগই ট্রাম্পের জ্ঞানের বহর নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ।

ট্রাম্পের এই টুইট দেখে বারাক ও মিশেল ওবামার ভক্ত ১৮ বছরের ছাত্রী আস্থা শর্মারও হাত নিশপিশ করছিল।

ট্রাম্পের টুইটের জবাবে তিনি লেখেন, ‘আমি আপনার থেকে ৫৪ বছরের ছোট। মোটামুটি নম্বর পেয়ে সবে হাইস্কুলের পরীক্ষায় পাশ করেছি। কিন্তু আমিও আপনার জ্ঞাতার্থে জানাতে পারি, কাকে বলে আবহাওয়া আর কাকে বলে জলবায়ু। চাইলে আপনার বোঝার সুবিধার জন্য আমার এনসাইক্লোপিডিয়া বইটি আপনাকে ধার দিতে পারি। ওটা দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে আমার কাছে আছে। বইটায় ছবি ও তথ্য দিয়ে সব ভাল করে বোঝানো আছে।’

সাথে সাথে ‘হিট’ আস্থার টুইট।

পরে আস্থা ফের লেখেন, ‘আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট বোঝাতে চেয়েছেন, এই আর্কটিক কোল্ড ব্লাস্ট বিশ্ব উষ্ণায়নের তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করে। কিন্তু আমার মতে, একবার ‘আর্কটিক কোল্ড ব্লাস্ট’ হওয়া মানেই বিশ্ব উষ্ণায়ন মিথ্যে হয়ে যায় না। আমি ভুল হতে পারি। কিন্তু নিজের মতটা জানালাম মাত্র।’

ছোট্ট মেয়ের এমন সাহস নেটিজেনদের খুবই মনে ধরেছে। কেউ আবার আস্থার উদ্দেশে টুইট করে বুঝিয়েছেন, অত বিনয়ী হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। এটা প্রমাণিত, বৈজ্ঞানিক সত্য।

প্রসঙ্গত, আবহাওয়া মানে বিশেষ কোনও দিনের তাপমাত্রা; জলীয় বাষ্প, বায়ুচাপ ইত্যাদি। আর জলবায়ু হল দীর্ঘদিনের আবহাওয়া পরিস্থিতির গড় ও সামগ্রিক চিত্র। বিশ্বের জলবায়ু বদলেরই একটি দীর্ঘকালীন লক্ষণ হল বিশ্ব উষ্ণায়ন।

তবে এ সব বিজ্ঞানের কথা ছাপিয়ে টুইট জুড়ে চলছে আস্থার সাহসের প্রশংসা। যারা এই আসাম রাজ্যের এই তরুণীর প্রশংসা করেছেন, তাদের বেশির ভাগই ট্রাম্পের দেশের মানুষ।

যেমন: কালিওপা ডেভ নামের একজন লিখছেন, ‘ওই টুইটের সঙ্গে একটা কার্টুন থাকলে আরও জমত।’ ব্র্যাড অসবর্নের টুইট, ‘আমার নতুন হিরো আস্থা শর্মা।’ ডন জোনস লেখেন, ‘এত ক্ষণে নিশ্চয়ই ওয়াশিংটন ডিসির তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বেড়ে গিয়েছে। কারণ ট্রাম্পকে টুইটের আগুনে রোস্ট করে ফেলেছেন আস্থা শর্মা।’

গত ৪৮ ঘণ্টায় টুইটারে আস্থার বিদেশি ফলোয়ার দু’শো ছাড়িয়ে গিয়েছে!

প্রশ্ন হল, ট্রাম্পের কাজকর্ম কথাবার্তায় মজা তো অনেকেই পাচ্ছেন। বিরক্তও হচ্ছেন অনেকে। হঠাৎ যোরহাটে বসে একটা মেয়ে কেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে ক্ষমতাবান’ শাসকটিকে জ্ঞান দেওয়ার আস্পর্ধা দেখাতে গেলেন?

এ নিয়ে এত শত ভাবতে রাজি নন আস্থা। তাছাড়া সে তো ভাবেইনি, তার মত এক অখ্যাত মেয়ের একটা কমেন্টে এমন প্রতিক্রিয়া হবে। নিজের সম্পর্কে তার মন্তব্য, ‘আমার সমস্যা হল, এই কঠোর বাস্তবের দুনিয়ায় আমি রূপকথার চরিত্র হয়ে থাকতে চাই।’

তাই বুঝি রূপকথার চরিত্রের মতই একটা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন এই অষ্টাদশী।

সূত্র: আনন্দবাজার