বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা-গ্রেফতারে কিছু করার নেই, সিদ্ধান্ত ইসি’র

শনিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৮

ঢাকা: তফসিলের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যে নালিশ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইসি সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ বিএনপির। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি মামলার তালিকাও দেওয়া হয় ইসিতে। কিন্তু মামলার তালিকা কমিশনে উঠানো হলে, কমিশন মামলার তালিকা দুটি ভাগে ভাগ করে। এর মধ্যে কিছু মামলায় দেখা যায়, তফসিলের আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের। এসব মামলার বিষয়ে কমিশনের কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত হয়। আর বাকি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীর বাবা-মায়ের নাম-ঠিকানা নেই। এ কারণে এসব মামলার বিষয়ে ইসির কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, বিএনপির মামলার বিষয়ে ইসির কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তের ফাইলটি কমিশনারদের স্বাক্ষর শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের দফতরে রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত দুই-একদিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে অথবা মৌখিকভাবে বিএনপিকে জানানো হবে।

এর আগে বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ জন নিখোঁজসহ গ্রেফতার হওয়া ৫২৯ জন নেতাকর্মীর একটি তালিকা জমা দেয় বিএনপি।

বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী নিখোঁজ হওয়া মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপি নেতা ইব্রাহিম হোসেন, গাইবান্ধা-২ আসনে দলের গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান খান বাবু, নেত্রকোনা সদর-২ আসনের ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক রয়েল, ঢাকা মহানগর-১০ আসনের ঢাকা দক্ষিণ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি ও যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বক্কর আবু। গেল বৃহস্পতিবার পল্টন থেকে নিখোঁজ যশোরের বিএনপি নেতা আবু বক্কর আবুর লাশ মিলেছে বুড়িগঙ্গায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করে বলা হয়, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা এর আগে দুইবার দলের পক্ষ থেকে ইসিকে দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলার তালিকা দেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেপরোয়া। কয়েক দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে দিনের পর দিন আটক রেখে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। আবার কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আটকের পর গুম করে রাখা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশিও চলছে।

এর আগে ১৬ নভেম্বর সিইসির কাছের ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের তালিকা জমা দেয় বিএনপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত সে চিঠিতে বলা হয়, তফসিল-পরবর্তী সময়ে বিএনপির এ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর লাশ উদ্ধারে বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন।

বিএনপি যে মামলার তালিকা দিয়েছিল, সেখান থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর লাশ বুড়িগঙ্গাতে পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী, জানতে চাইলে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘পুলিশ ফৌজদারি মামলা করবে। আমরা তো কিছু করতে পারব না। কী ঘটনা ঘটেছে সেটা তো জানি না। ক্রিমিনাল কেস হবে, ইনভেস্টিগেশন করবে পুলিশ। দেখবে, কীভাবে তাকে মারা হয়েছে। এ ব্যাপারে তো আমার বলার কিছু নাই।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘আইনগতভাবে তারা দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে নেবে। এটা নির্দেশ থাকবে পুলিশের ওপরে।’