সাগরের নিচে কৃষিকাজ!

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২২, ২০১৮

ঢাকা : মনের সুখে চাষবাস করছেন এক ব্যক্তি। তবে মুখে রয়েছে অক্সিজেন মাস্ক। কেননা তিনি এই সমুদ্রের গভীরে করে চলছেন ‘কৃষিকাজ’। পানির নিচের জমিতে চাষ করছেন প্রবাল। কোরাল রিফের গুরুত্ব বুঝেই কলম্বিয়ায় সমুদ্রের তলায় এই বিশেষ সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যারিবিয়ান সাগরে জাভিয়ের বেকার নামে এক ব্যক্তি কলম্বিয়া সান আন্দ্রেজ এই প্রবাল চাষের কাজ শুরু করেন, সংরক্ষণ করছেন প্রবাল দ্বীপ। তবে তিনি একা এই কাজ করছেন না। সাঙ্গে আছেন আরো অনেকেই। সামুদ্রিক জমিতে কোরাল চাষের জন্য কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেজ ও প্রভিদেনশিয়ার ৪০ জন মৎস্যজীবী এগিয়ে এসেছেন। প্রতি মাসে প্রায় ৮৯০০ টাকা (১২৫ ডলার) পান তাঁরা ‘আন্ডার সি গার্ডেনিং’ প্রকল্পে কাজের জন্য।

প্রবাল চাষের প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপে প্রবালগুলি সমুদ্রে রাখা হয়েছে। বেঁচেও গিয়েছে প্রবালগুলো। এই আর্কিপেলাগো কলম্বিয়ার ৮০ শতাংশ প্রবালের বাসস্থান। ক্যারিবিয়ান সাগরের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প এটি। এর আগে গত বছরে প্রায় ১০ হাজার প্রবালের টুকরো নিয়ে সমুদ্রের তলদেশে ভাসমান নার্সারিতে সংরক্ষণের কাজ হয়েছিল। প্রকল্পে যুক্ত ব্যক্তিদের ধারণা, ধীরে ধীরে প্রায় ১৫০ একর এলাকাজুড়ে এই নতুন প্রবাল কলোনি গড়ে উঠবে।

একটা সুস্থ প্রবাল প্রকৃতির কাছে একটা সামু্দ্রিক মাছের চেয়ে বেশি জরুরি। কারণ বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই প্রবাল প্রাচীরের। অতিরিক্ত মাছ ধরা, দূষণ ও পর্যটকদের কারণে প্রবালের অস্তিত্ব বিপন্ন। তাই একাধিক মৎস্যজীবী পরিবার যোগ গিয়েছে এই প্রবাল চাষের কাজে।

সি-ফ্লাওয়ার বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ নাম দেওয়া হয়েছে এই সংরক্ষিত এলাকাটিকে। ইউনেসকো এটিকে ২০০০ সালে সংরক্ষিত বলে ঘোষণা করেছে।