মনোনয়ন যুদ্ধে ৩ পিতার আসনে ৩ কন্যা

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২২, ২০১৮

চট্টগ্রামে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিতাদের আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তিন কন্যা। তাদের পিতাদের আসন পুনরুদ্ধারে চট্টগ্রামের তিনটি আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুত এই রাজনৈতিক কন্যারা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম-৫ ও চট্টগ্রাম ১৩ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আছেন এসব আসনে এক সময় নির্বাচন করা রাজনীতিকদের তিন কন্যা। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দু’জন এবং বিএনপির একজন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশকে তারা পাশেও পেয়েছেন। তিনজনই মনে করেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে পিতাদের আদর্শ এবং নীতি অনুসরণ করে নির্বাচনে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত রফিকুল আনোয়ার। তিনি এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে এ আসন থেকে তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েও জোটগত কারণে পরে তা প্রত্যাহার করিয়ে নেয়া হয়। এবারও ফটিকছড়ি আসন থেকে নির্বাচন করতে চান তার মেয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। এ জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

খাদিজাতুল আনোয়ার সনি মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ফটিকছড়িবাসী এবার দল থেকেই প্রার্থী চায়। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংযোগের কারণে এবার মনোনয়ন লাভের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। তবে এ আসন থেকে তাঁর চাচা আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার দলীয় মনোনয়ন চাইছেন বলে জানা গেছে।

এ দিকে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা ও কর্ণফুলী) আসনে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক এমএলএ প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সার। অবশ্য তিনি প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের কাছে হেরে যান। এবার একই আসনে নির্বাচন করতে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তাঁর কন্যা বর্তমান সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য ও মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওয়াসিকা আয়েশা খান।

তিনি গতবারও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন পান একই আসনের প্রয়াত সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এমপি হওয়ার পর তিনি পেয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। পিতার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন সাইফুজ্জামানের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবারও ওয়াসিকার মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ফের নৌকার প্রার্থী হতে চান তিনি। ওয়াসিকা আয়েশা খান বলেন, ‘সরাসরি লড়াইয়ের জন্য আমিও মনোনয়ন চাইব। তবে কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই কাজ করব।’

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে প্রয়াত সাবেক হুইপ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার একই আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে লড়তে চান তাঁর মেয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে দীর্ঘ জেল জুলুমের শিকার এই রাজনৈতিক কন্যা স্থানীয় তৃনমুল নেতাকর্মীদের কাছে ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন।

আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে আমি দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। দলের নেতাকর্মীদের আইনগত সহায়তা প্রদান করে আসছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দলের চেয়ারপারসন এসব কিছু বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দেবেন।