তিস্তায় একাধিক শাখা নদী: পারাপারে জনদুর্ভোগ

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২২, ২০১৮

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন ও সংরক্ষণের অভাবে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে একাধিক শাখা নদীতে পরিনত হয়েছে। শাখা নদীগুলোতে নৌকা চলাচলের অনুপযোগি হওয়ায় পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়েছে তিস্তার দুই পারের মানুষজন।

ধু-ধু বালুচর ও একাধিক শাখানদীর হাঁটু এবং কমর পানি পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে প্রতিদিন চলাচল করতে হস্ছে চরাঞ্চলের মানুষজনকে। অনেক শাখানদীর উপর নড়বড়ে বাঁশের ও কাঁঠের সাঁকো থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে গেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও দুর পথের যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হস্ছে। শাখানদী পার হতে গিয়ে পরণের প্যান্ট, স্যালোয়ার, লুঙি, শাড়ি ও পায়জামা ভিজে যাস্ছে পথচারিদের।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা, তারাপুর, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসি তিস্তানদী দীর্ঘদিনেও খনন, ড্রেজিং, শাসন ও সংরক্ষণ না করায় উজান থেকে নেমে আসা পলিজমে ধু-ধু বালু চরে পরিনত হয়েছে।

নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে গতিপথ পরিবর্তন হয়ে একাধিক শাখানদীতে রুপ নিয়েছে তিস্তা। প্রতিদিন হাজারও মানুষজন ও শিক্ষার্থী কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা হতে লালচামার, পাচঁপীর, হরিপুর, বেলকা, রামডাকুয়া ও চরখোদ্দা রুট হয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় পড়া লেখা এবং কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া আসা করতে হস্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রতিনিয়ত অসহনীয় দুর্ভোগ পোয়াতে হস্ছে তাদেরকে। নদী ভরাট ও গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় হাজার নৌ-শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এখন তিস্তায় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হস্ছে ঘোড়ার গাড়ী। তাছাড়া মোটর সাইকেল ও বাইসাইকেলে চড়ে অনেকে পারাপার হস্ছে।

তবে বন্যার সময় ২ হতে ৩ মাস তেমন দুর্ভোগ পোয়াতে হয়না। উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা চরের স্মৃতি বেগম জানান তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজের একজন শিক্ষার্থী।

সপ্তাহে ২ হতে ৩ দিন তাকে কলেজে যেতে হয়। তিনি বলেন বর্ন্যার সময় ছাড়া শুকনা মৌসুমে তার বাড়ি হতে উপজেলা শহরে পৌছঁতে তাকে ২টি শাখানদী পায়ে হেটে এবং একটি শাখানদী বাশেঁর সাঁকোর উপর দিয়ে পার হতে হয়। সে কারণে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয় প্রতিনিয়ত।

উপজেলার জরমনদী গ্রামের চাকরিজীবি সালাম মিয়া জানান প্রতিদিন তাকে তিস্তার ৮ হতে ৯টি শাখানদী পার হয়ে কুড়িগ্রামের উলিপুর শিক্ষা অফিসে গিয়ে চাকরি করতে হয়। এতে করে তাকে চরম দুর্ভোগ পোয়াতে হয়।

হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জানান, পরিবেশকে বাচাঁতে হলে নদী খনন, ড্রেজিং, ও সংরক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তানদীর চরাঞ্চল মরুভুমিতে পরিনত হবে। নষ্ট হয়ে যাবে জীব বৈচিত্র ও পরিবেশের বিচিত্ররুপ।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষন করা একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। সে কারনে এটি সরকারের উপর মহলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে নদী সংরক্ষণে গাইবান্ধার জন্য একটি বরাদ্দ পাস হয়েছে।