ঢাকার ৫ টি আসন: বাদ ও অন্তর্ভুক্তির খেলায় চমক আসছে নৌকার মনোনয়নে

বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮

জাহিন সিংহ : দিন কাটেনা। রাত কাটেনা। এক একটি মূহৃর্ত যেন এক একটি দিনের সমান। সবার লক্ষ্য মনোনয়ন। সবাই স্বপ্ন দেখেন মনোনয়ন লাভের। আগেই যেমন বলেছিলাম, সংসদ সদস্য হবার জন্য সবাই যতনা উদগ্রীব সে তুলনায় নেতা হতে চান না কেউই।

ঢাকা জেলার ৫ টি সংসদীয় আসন নিয়ে চলছে শেষ মূহৃর্তের চুল চেরা বিশ্লেষণ। আলোচনায় রয়েছেন যেমন সাবেক সাংসদরা,তেমনি বাদ নেই নতুন মুখের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও।

গুঞ্জন রয়েছে, জেলার বেশ কয়েকটি আসনে মনোনয়নে পরিবর্তন আসছে। পুরনোদের অনেকে যেমন বাদ পড়ছেন তেমনি নতুন মুখের অনেকেই সরব রয়েছেন মনোনয়ন লাভে।

ঢাকা-১। ১৭৪ নম্বর আসনটি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত।আসনটি বর্তমানে জাতীয় পার্টির দখলে।বর্তমান সাংসদ রাজনীতি, শিল্পপতি, প্রকাশক ও এডভোকেট সালমা ইসলাম এবার-ও মনোনয়ন পাচ্ছেন জাতীয় পার্টি থেকে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান খানকে মাত্র ৪৬৫১ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে সংসদে আসেন সালমা ইসলাম।

একাদশ নির্বাচনে আব্দুল মান্নান খান মনোনয়ন পাচ্ছেন না এটা নিশ্চিত। তার স্থলে আসছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা হয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান।

ঢাকা-২। জাতীয় সংসদের ১৭৫নং আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আমিনবাজার ইউনিয়ন, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন, কেরানিগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগ থানার সুন্দরগঞ্জ ইউনিয়ন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। দশম সংসদ নির্বাচনে বিনাভোটে নির্বাচিত হন এ্যাডভোটেক মোঃ কামরুল ইসলাম। বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী। নিজ দলেই তার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বি কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। নানা শংকা আর অগ্নি পরিক্ষা শেষে শেষ পর্যন্ত এ্যাডভোটেক মোঃ কামরুল ইসলামের এখন মনোনয়ন লাভে পাল্লা ভারী।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন প্রার্থীদের গণভবনে ডেকে নিয়ে সাফ বলে দিয়েছেন,তৃণমূল প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা বা ইউনিয়ন পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়ররা এবার মনোনয়ন পাবেন না। সে হিসেবে প্রচন্ড সম্ভাবনা থাকা সত্বেও মনোনয়ন দৌড়ে ছিটকে পড়েছেন শাহীন আহমেদ।

ঢাকা-৩। জাতীয় সংসদের ১৭৬নং আসনটি ঢাকা জেলার কেরানিগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এই ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।দশম সংসদে এই আসনে বিনাভোটে নির্বাচিত নসরুল হামিদ বিপু বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।একমাত্র এই আসনেই মনোনয়ন নিশ্চিত। নো টেনশনে নসরুল হামিদ বিপু।

ঢাকা-১৯। জাতীয় সংসদের ১৯২নং আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, পাথালিয়া ইয়ারপুর আশুলিয়া বিরুলিয়া বনগাঁও ইউনিয়ন এবং সাভার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।দশম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবেই চমক ছিলেন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা.এনামুর রহমান।নবম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের হাতে আসনটি তুলে দিয়েছিলেন সাবেক সাংসদ মরহুম আনোয়ার জং’র ছেলে তালুকদার মো:তৌহিদ জং মুরাদ।সেবার ৪,৫৬,৫১৯ ভোটের মধ্যে মোট ভোটারের ৬১.৯% ভোট অর্থাৎ ২৮২,৪৯২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন তৌহিদ জং মুরাদ।বিএনপির প্রার্থী সাবেক সাংসদ ডা.দেওয়ান মো.সালাউদ্দিন ১,৭০,৭১৯ ভোট পান।যা মোট ভোটারের ৩৭.৪% ভাগ।

এবারো মনোয়ন লাভে মরিয়া তৌহিদ জং মুরাদ। শেষ বেলায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কৃপা লাভে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন তিনি।একই অবস্থানে যুবলীগের বরিশাল অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন।শেষ চেষ্টা হিসেবে দু’জনই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন মনোনয়ন লাভে।

তবে বর্তমান সাংসদ ডা.এনামুর রহমান নির্ভার। নি:চিন্তায় তিনি ঘরে সময় কাটাচ্ছেন ইবাদত বন্দেগী করে। সূত্রমতে,এই আসনে প্রার্থী হেরফের হবার সম্ভাবনা কম। সে হিসেবে ডা.এনাম টিকে গেলে সেটাই হবার তার প্রথম বিজয়।পরের বিজয় অর্জনে তার কমপক্ষে বিএনপির প্রার্থীর চাইতে দুই লাখ বেশি ভোটের ব্যবধানে জিততে হবে।

ঢাকা-২০। জাতীয় সংসদের ১৯৩ নং আসনটি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত।দশম নির্বাচনে এই আসনাএ বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কশুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ. মালেক। এবার ছক মতো সবকিছু পরিচালিত হলে কপাল পোড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই সাংসদের।নানা অনিয়ম,স্বজনপ্রীতি আর বদনামে কারনে তার ইমেজের নৌকা এখন ডুবন্ত।

সেক্ষেত্রে পুরনো মুখ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ।অবশ্য নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অধ্যুষিত এই আসনে ব্যারিষ্টার জিয়াউর রহমান খানকে হারিয়ে সংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।২,২৭,১৩৫ ভোটের মধ্যে তার প্রাপ্ত ভোট ছিলো ১৩৩,৪৩৭ ভোট। যা মোট ভোটারের ৫৮.৭%।

এর মধ্যে ৯৩,১৭৭ ভোট পেয়ে মোট ভোটারের ৪১.০% ভাগ পেয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী।

সব কিছু ঠিকঠাক মতো চললে বেনজীর আহমেদকেই একাদশ সংসদে লড়তে দেখা যেতে পারে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীর সাথে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নুতন আর পুরনো মুখের টিকে থাকা আর ফিরে আসার মাঝে সকলেরই এখন ভীষণ দু:চিন্তা।প্রতিটি প্রহর কাটছে উদ্বেগ আর সীমাহীন উৎকণ্ঠা।মনোয়নের দৌড়ে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসি?

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন মানে এখন যেন এক অগ্নি পরিক্ষা।সেই পরিক্ষায় উ্র্ত্তীণ হবার পর দ্বিতীয় ধাপে তাদের লড়তে হবে প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (ঢাকা-১) প্রার্থীদের বিরুদ্ধে।ৱ

প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরীর জনপ্রিয় গান ‘সময় যেন কাটে না,বড় একা একা লাগে’ গানটি গেয়েই সময় কাটছে প্রার্থীদের। আর আমরা আবৃত্তি করছি,
কবি ফররুখ আহমেদের অমর কবিতা পাঞ্জেরি………….

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?