ধামরাইয়ে নৌকার টিকেট পাচ্ছেন বেনজীর, আউট হচ্ছেন মালেক

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

জাহিন সিংহ, ধামরাই থেকে : মালেক আউট। বেনজীর ইন। এখন পর্যন্ত এমন গুঞ্জনেই মুখর সংসদীয় আসন ঢাকা-২০। এই আসনে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে মরিয়া আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ আব্দুল মালেক। উল্টো দিকে হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার করে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে বেনজীর আহমেদ।

ধামরাই বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। ১৬ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে এই আসনে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিত্বে আওয়ামী লীগের আধিপত্য।সেটা প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে নি:সন্দেহ আব্দুল মালেকের অবদান রয়েছে। কিন্তু নিজের আত্নীয় পরিজন আর ঘনিষ্টদের নানা অপকর্মের খতিয়ান তার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষ করে কুচক্রিদের পরামর্শে গণমাধ্যম কর্মিদের বিরুদ্ধ মামলা, ভুয়া মানববন্ধন করে নিজেরাই আলোচনায় এনেছেন নিজেদের অপকর্মগুলোকে।

আদতে বেনজীর আহমেদ ও আব্দুল মালেককে অনেকেই চেনেন গুরু শিষ্য হিসেবে। দু’জনেই মুক্তিযোদ্ধা। বেনজীর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। মালেক ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধামরাই থেকে প্রথম বারের মতো জয় পায় বেনজীর আহমেদ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে তার ঘনিষ্ঠদের অবৈধ বালু মহাল, টেন্ডারবাজীসহ নানা র্কীতি কলাপ শেষ পর্যন্ত তার ইমেজের সাদা কাপড়ে দাগ দিয়ে যায়। ফলাফল ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন হারান তিনি। সবাই ভেবেছিলো ৫ জানুয়ারির সরকার বোধহয় বেশীদিন টিকবে না। বেনজীর আহমেদ-ও ভেবে থাকতে পারেন, খামোখা এই নির্বাচনে দাঁড়িয়ে অর্থনাশের কোন মানে হয়না।

সামান্য ক’টি টাকার ঋন খেলাপীর মোড়কে নির্বাচন থেকে কৌশলে সরে এলেন বেনজীর। একান্ত বিশ্বস্ত হিসেবে চেয়ারটা এগিয়ে দিলেন মালেকের দিকে। সুযোগটাও লুফে নিলেন কুশরা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক। বিনা ভোটে এমপি হলেন।তারপর ক্ষমতা আর আধিপত্যের আবরনে বদলে গেলেন।

রাজনীতিতে বেনজীর ও মালেকের এক সময়ের হরিহর আত্নার সম্পর্ক নিয়ে অনেকেই বলতেন গুরু শিষ্যের সম্পর্ক নজিরবিহীন।

শেষ পর্যন্ত শিষ্য সরাসরি কামান দাগলেন গুরুকে লক্ষ্য করে। ঢাকায় আওয়ামী লীগের সভায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ এনে চমকে দেন দলের নেতাদের। বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে ধামরাইতে সাংবাদিক সম্মেলন করেও নানা অভিযোগ আনেন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে।

এভাবে চলতে চলতে ধামরাইতে আজ মুখোমুখি দুটো গ্রুপ। কেউ প্রার্থনা করছে, মনোনয়ন যাতে আব্দুল মালেকই পান, আবার প্রতিপক্ষে প্রার্থনা হচ্ছে, বেনজীর আহমেদই যেন মনোনয়ন পান।

এই ডামাডোলে নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় পার্টি। কোন্দলের সুযোগ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আবদার করে বলেছে, আসনটি যাতে মহাজোটকে দেয়া হয়।

এ অবস্থায় বিএনপির দূর্গে আঘাত এনে জয়ের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। সব মিলিয়ে এক্ষেত্রে বেনজীর আহমেদকেই এগিয়ে রাখছে দলটি।

শেষ পর্যন্ত কি তবে মালেক আউট আর বেনজীর ইন করবে!এমন গুঞ্জনেই ভাসছে ধামরাই। তবে চূড়ান্ত বিবেচনায় কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নৌকা তা জানতে প্রতিক্ষা করছে ধামরাইবাসী।