ক্যানসার থেকে বাঁচতে চান? এই ৭টি খাবার খেতেই হবে!

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

স্বাস্থ্য ডেস্ক : সারা বিশ্বে প্রতি বছর নতুন করে ক্যানসার রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা মনে করছেন, এমনভাবে যদি এই মারণ রোগের প্রকোপ বাড়ে, তাহলে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে একজন করে ক্যানসার রোগী থাকবেন। কিন্তু এই ক্যানসার রোগের মার থেকে বাঁচার উপায় আছে। আসলে এমন খাবার আছে, যা ক্যানসার রোগকে তো দূরে রাখবেই, সেই সঙ্গে শরীরকে ভেতর এবং বাইরে থেকে এতটাই শক্তিশালী করে তুলবে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না। প্রসঙ্গত, শরীরকে সুস্থ রাখতে সাধারণত যে যে খাবারগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলো হল…

ব্রকলি

একাধিক গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে প্রস্টেট, কোলন এবং ব্লাডার ক্যানসারের মতো রোগকে দূরে রাখতে ব্রকলির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই সবজিটির ভেতরে উপস্থিত ‘সালফোরাফেন’ নামক উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে ক্যানসার সেল সৃষ্টিকারি বিশেষ কিছু ক্যামিকেলকে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে এই মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনও আশঙ্কা আর থাকে না।

কমলা লেবু

শীতকাল তো প্রায় এসেই গেল। তাহলে আর অপেক্ষা কেন! আজ থেকেই কমলা লেবু খাওয়া শুরু করে দিন। তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে! আসলে বেশ কিছু স্টাডি অনুসারে প্রতিদিন যদি একটা করে কমলা লেবু খাওয়া যায়, তাহলে ক্যানসার রোগ ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগ পায় না। কারণ এই ফলটির ভেতরে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর ক্যানসার সেলেদের ধ্বংস করে দেয়। ফলে কোনও ধরনের ক্যানসারেই আর আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

গ্রিন টি

চিকিৎসকেদের মতে প্রতিদিন ২-৩ কাপ গ্রিন টি পান করা শুরু করলে শরীরে এত মাত্রায় অ্যান্টঅক্সিডেন্টের প্রবেশ ঘটে যে ইসোফেগাল, লাং, ওরাল, লিভার, প্যানক্রিয়াটিক এবং প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। সেই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

টমাটো

ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতে বাস্তবিকই টমাটোর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই সবজিটি খাওয়া মাত্র শরীরের ভেতরে লাইকোপেন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা আসলে একটি অ্যান্টি-ক্যানসার প্রপাজিট। প্রসঙ্গত, গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত একটা করে কাঁচা টমাটো খাওয়া শুরু করলে প্রস্টেট, এন্ডোমেটরিয়াল, লাং, প্রস্টেট এবং স্টমাক ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

আদা

আমাদের দেশে যে হারে ক্যানসার রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে ৮-৮০ এর নিয়মিত অল্প করে কাঁচা আদা খাওয়া উচিত। কারণ এমনটা করলে ক্যানসার সেলের প্রকৃতি বদলে গিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের মেরে ফেলে। আর শরীরে যখন ক্যানসার সেল থাকেই না, তখন ভয় কিসের!

আপেল

প্রতিদিন আপেল খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। আর যদি আপেলের খোসা খাওয়া শুরু করেন, তাহলে তো কথাই নেই! কারণ একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে, নিয়মিত আপেলের খোসা খেলে শরীরে উপস্থিত ক্যানসার কোষেদের আয়ু কমতে শুরু করে। ফলে প্রস্টেট এবং ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কোনও আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে।

পালং শাক

প্রিয় এই সবজিটিকে যদি রোজের ডায়েটে জায়গা করে দেন, তাহলে আর কোনও চিন্তা নেই। কারণ পালং শাকে উপস্থিত ভিটামিন সি, কে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌথভাবে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানদের মেরে ফেলে। ফলে এই মারণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। তাই, নিজের এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের আয়ু বৃদ্ধি পাক, এমনটা যদি চান, তাহলে পালং শাক দিয়ে তৈরি নানা পদ খেতে ভুলবেন না যেন!

সূত্র: বোলস্কাই